Kolkata Derby Match Review
Bengal Liberty, ১৭ মে ২০২৬: বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো এশিয়ার সব থেকে বড় ডার্বি ম্যাচ। যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান নিজেদের সেরাটা তুলে ধরেছিল (Kolkata Derby Match Review)।
৬২,২০১ ফুটবল সমর্থকের সামনে আজকের দিনটি কোনো যুদ্ধের থেকে কম কিছু নয়। উত্তেজনা, উন্মাদনা—আট থেকে আশি, সবাই ফুটবল জ্বরে নিশ্চিত রূপে একদিনের জন্য কাবু ছিল।

সেরকমই দুর্দান্ত, রুদ্ধশ্বাস একটি ম্যাচের সাক্ষী রইল ফুটবলপ্রেমীরা (Kolkata Derby Match Review)
শেষ হলো ডার্বির খেলা। সেই ডার্বিতে কোনো পক্ষই জয়ী হলো না, ১-১ স্কোরলাইনে সমাপ্তি ঘটল এবারের ঐতিহাসিক কলকাতা ডার্বির।
এরই মধ্যে ড্র করেও চালকের আসনে ইস্টবেঙ্গল। রক্ষণশীল ফুটবলের সুন্দর প্রতিচ্ছবি সাদা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন রাকিপ, রাশিদরা।
অন্যদিকে মোহনবাগান আদতে কী করতে হবে সেটাই ভুলে গিয়েছিল। যেখানে ইস্টবেঙ্গলের তরফ থেকে গঠনমূলক খেলার সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে মোহনবাগান শট, বলের দখল, কর্নারে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হয়েছে। লাল-হলুদের প্রতিরক্ষার সামনে কার্যত ধরাশায়ী কোচ সের্গিও লোবেরার স্ট্র্যাটেজি।
ড্র নিয়েই লীগের শেষ ম্যাচে নামবে প্রধান দুই শিবির, তারপরই হয়ে যাবে ফয়সালা যে এবারের আইএসএলের মুকুট কোন দলের মাথায় উঠবে।
East Bengal vs Mohun Bagan Derby: ১০৫ বছর পুরোনো, এশিয়ার সব থেকে প্রাচীন ফুটবল rivalry দিন ঘনিয়ে এলো@mohunbagansg @eastbengal_fc @SuvenduWB @NisithPramanik @bengalliberty1 #mohunbagansupergiants #emamieastbengal #mohunbaganvseastbengal #kolkataderby #ISL2026 #bengalliberty pic.twitter.com/NiRY774GnP
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) May 17, 2026
মানব প্রাচীর ইস্টবেঙ্গল (Kolkata Derby Match Review)
ম্যাচের শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গলের প্রতিরক্ষা। মাঝমাঠের দখল, পাসিং, শটের নির্বাচন আর গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল—সব মিলিয়ে ম্যাচের নায়ক। পুরো ম্যাচ জুড়ে বিপিন সিং প্রচুর ভুল করলেও পি এস গিলের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের সামনে পিছিয়ে পড়েছিলেন কামিন্সরা।
আরো পড়ুন:- TMC leaders security downgrade: ভিভিআইপি নিরাপত্তা বলয়ে বড় রদবদল: ফিরহাদ থেকে সুব্রত বক্সি, তৃণমূল নেতাদের সুরক্ষায় নয়া বিন্যাস

লালরিনডিকার গোল (Kolkata Derby Match Review)
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি ধরা পড়েছে। ইস্টবেঙ্গল পুরোপুরি ডমিনেট করে রেখেছিলো মোহনবাগানকে। এক মিনিটের জন্যও মনে হয়নি যে মোহনবাগান জয়ের জন্য নেমেছে । আক্রমণ প্রতি-আক্রমণের মধ্যেই ম্যাচের ৮৪ মিনিটে দুর্দান্ত পাসিংয়ের সাহায্যে ছবির মতো গোল করেন এডমুন্ড লালরিনডিকা।
গোলের পর জার্সি খুলে উদযাপন করেন তিনি। তখন রেফারির তরফ থেকে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। তারপরে রেফারির সঙ্গে বাক্য বিনিময়ের জন্য লাল কার্ড দেখতে হলো লালরিনডিকা কে।
গোলের পর ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি আনন্দে, উৎসবে, খুশিতে চোখের জল ফেলছিল, যখন মনে হয়েছিল ২২ বছর পর ফের লীগের রং হবে লাল-হলুদ। ঠিক তখনই চলচ্চিত্রের মতো চলে এল অপ্রত্যাশিত একটি টুইস্ট, যা আইএসএলকে আরও জটিল করে তুলল।
শেষ মুহূর্তে কামিন্সের চমক (Kolkata Derby Match Review)
যখন মনে হয়েছিল ডার্বির রং হবে লাল-হলুদ, ঠিক তখনই ম্যাচের ৮৯ মিনিটে কর্নারের সাহায্যে গোল তুলে নেন স্কটিশ খেলোয়াড় জেসন কামিন্স। তারপরেই সবুজ-মেরুন শিবিরে তুমুল উত্তেজনা আর উন্মাদনার সৃষ্টি হয়।
ম্যাচ শেষে ড্রয়ের মধ্যেও এখনও লীগ টেবিলে চালকের আসনে অস্কারের ছেলেরা।

জমে উঠেছে আইএসএল (Kolkata Derby Match Review)
কলকাতা ডার্বি ড্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এবারের আইএসএল একেবারে জমে উঠেছে। চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে এখনও ফেভারিট ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু তাদের সঙ্গে মোহনবাগান, বেঙ্গালুরু এফসি, মুম্বাই সিটি এফসিও রয়েছে।
এই মুহূর্তে ২৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্টস টেবিলের শীর্ষে আছে ইস্টবেঙ্গল। যদি তারা তাদের শেষ ম্যাচ ইন্টার কাশীর সঙ্গে ড্রও করে, তবুও লীগ জেতার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি লাল-হলুদেরই, কারণ সব দলের থেকে গোলের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
মোহনবাগানকে দিল্লির বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিততে হবে। বাকি দলগুলির কাছেও সমীকরণ যথেষ্ট সহজ।
আর কিছুদিনের অপেক্ষা, তারপরই ঠিক হয়ে যাবে এবারের আইএসএলের চ্যাম্পিয়ন হবে কোন দল। ততক্ষণে আবার পরের মরসুমের অপেক্ষা। ফের রাঙা হবে বাংলা, ফের ডার্বির জ্বরে কাবু হবে গোটা বাংলার ফুটবলপ্রেমী মানুষ।
