CM on Park Circus violence
Bengal Liberty, ১৮ মে :
রবিবার রাতের পার্ক সার্কাস মুহূর্তে পরিণত হয়েছিল অগ্নিগর্ভ সংঘর্ষের মঞ্চে (CM on Park Circus violence)। তিলজলার বেআইনি নির্মাণে বুলডোজার অভিযানের প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াতেই সেভেন পয়েন্ট এলাকায় রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর শুরু হয় ইটবৃষ্টি, হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর। আহত হন একাধিক পুলিশকর্মী, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুলিশের গাড়ি ও সাধারণ বাস। আর সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক তৎপরতায় সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পুলিশের গায়ে হাত পড়লে সরকার যতদূর দরকার যাবে”, তারপরই বলেন, “আমার চেয়ে খারাপ পুলিশমন্ত্রী কেউ হবে না”। রবিবার রাতের পার্ক সার্কাসের অশান্তির পর আজ, সোমবার তিনি পৌঁছে যান কলকাতা পুলিশের সাউথ-ইস্ট ডিভিশনের ডিসি অফিসে, বৈঠক করেন ‘ডার্ক জোন’ চিহ্নিত এলাকার আধিকারিকদের সঙ্গে এবং আহত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন (CM on Park Circus violence)।

“পুলিশের গায়ে হাত পড়লে সরকার যতদূর দরকার যাবে”- রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি (CM on Park Circus violence)
পার্ক সার্কাসের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “শ্রীনগরে যেভাবে হঠাৎ মানুষ জড়ো করে পাথর ছোঁড়া বন্ধ হয়েছে, কলকাতাতেও তা বন্ধ হওয়া দরকার।” তিনি আহত পুলিশকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, গোটা ফোর্স অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি সামলেছে এবং প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে তাঁদের পাশে রয়েছে। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের মতো পুলিশকে হাত গুটিয়ে বসিয়ে রাখা হবে না। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে শেষবার বলছি, একটা পুলিশের গায়ে হাত পড়লে এই সরকার যতদূর দরকার যাবে।” পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্যেও তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “কে কোন দল করে, কোন সম্প্রদায় বা ধর্মের মানুষ,সব ভুলে গিয়ে আইন অনুযায়ী কাজ করুন। ট্রেনিংয়ে যা শেখানো হয়েছে, সুপিরিয়র অফিসার যা নির্দেশ দেবেন, তা ভয়মুক্ত ও চিন্তামুক্ত হয়ে পালন করুন।” কলকাতা পুলিশের ‘গৌরব ফিরিয়ে আনার’ কথাও এদিন উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপশি তিনি পুলিশকে খোলা হাত অনুমতি দেন। পার্ক সার্কাসের ঘটনার পূর্ণ দায়িত্বও সঁপে দেন কলকাতা পুলিশের হাতে।

পার্ক সার্কাস কি বড় অভিযানের সূচনা? (CM on Park Circus violence)
ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নগরপাল নিজে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন এবং আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “পার্ক সার্কাসই শেষ ঘটনা। বাংলায় আর এরকম হবে না। যদি কেউ আবার এমন করার চেষ্টা করেন, তাহলে আমার চেয়ে খারাপ পুলিশমন্ত্রী কেউ হবে না।” রবিবারের পার্ক সার্কাস সংঘর্ষ শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, বরং প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরও বড় ইঙ্গিত হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনার পর রাজ্যে বেআইনি জমায়েত ও হামলার বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারে প্রশাসন। এখন নজর, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কতদূর গড়ায় এবং কলকাতার রাস্তায় উত্তেজনার আগুন আদৌ সম্পূর্ণ নেভে কি না।
