Abhishek Banerjee property notice
Bengal Liberty, ১৯ মে :
কলকাতা পুরসভার নজরে এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সম্পত্তি (Abhishek Banerjee)। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের তরফে মোট ১৭টি ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ওই নোটিসে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নকশা, নির্মাণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং অতিরিক্ত নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতির নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড, প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, পণ্ডিতিয়া রোড ও ওস্তাদ আমির খান সরণির একাধিক ঠিকানার পাশাপাশি অভিষেকের পরিবার ও লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত সম্পত্তিতে এই নোটিস পৌঁছেছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, বাড়তি নির্মাণ হয়ে থাকলে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না। সংশ্লিষ্ট সমস্ত সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান, অনুমোদিত নকশার পাশাপশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে পুরসভায় হাজির হতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর (Abhishek Banerjee)।

‘শান্তিনিকেতনে’ নোটিশ কলকাতা পুরসভার (Abhishek Banerjee)
কলকাতা পুরসভার নজরে এবার হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮A নম্বরের ‘শান্তিনিকেতন’ ভবন। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নামে পাঠানো নোটিসেও কড়া অবস্থান নিয়েছে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ। বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০১ ধারায় জারি হওয়া ওই নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চিহ্নিত বেআইনি নির্মাণ আগামী সাত দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি, কোন অনুমতিতে নির্মাণ করা হয়েছে, নিয়ম ভাঙার কারণ কী এবং ভবনের ভিতরে লিফট বা এসক্যালেটর বসানোর আগে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে পুরসভাই বেআইনি অংশ ভেঙে দেবে এবং সেই অভিযানের সমস্ত খরচ আদায় করা হবে সম্পত্তির মালিকের কাছ থেকেই।

কালীঘাট থেকে প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি-একাধিক ঠিকানায় পুরসভার নোটিস (Abhishek Banerjee)
১১৯, কালীঘাট রোডের বাড়িতেও নোটিস পৌঁছে গিয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট ভাষায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওস্তাদ আমির খান সরণিতে সংস্থার অফিসেও নোটিস পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ১২১, কালীঘাট রোডের বাড়িতে মোট সাতটি নোটিস পাঠিয়েছে পুরসভা। এর মধ্যে পাঁচটি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এবং অন্যটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে জারি করা হয়েছে। প্রতিটি নোটিসই ৪০১ ধারায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে একইভাবে জানানো হয়েছে, বেআইনি নির্মাণের কারণ দেখাতে হবে অথবা তা ভেঙে ফেলতে হবে। তা না হলে পুরসভা নিজেই ভাঙার কাজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট খরচ আদায় করবে সম্পত্তির মালিকদের কাছ থেকে।
এছাড়াও প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পরিবর্তিত নাম এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতেও একাধিক নোটিস পাঠানো হয়েছে। ৪৬-বি, ২৯-এ এবং ২৯-সি নম্বর প্রিমিসেসের অ্যাসেসিকে নোটিস ধরিয়েছে পুরসভা। ২৯-সি নম্বর বিল্ডিংয়ে একটি নোটিস গিয়েছে অমিতের নামে। পাশাপাশি লতা ও অমিতের নামে আরও দু’টি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই এলাকায় মোট পাঁচটি নোটিস জারি করেছে কলকাতা পুরসভা।

শুভেন্দুর মন্তব্যের পরেই নড়েচড়ে বসে পুরসভা (Abhishek Banerjee)
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে সামনে আসতে শুরু করে। তারই মধ্যে শনিবার ফলতার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে কড়া আক্রমণ শানান। প্রকাশ্য সভা থেকে তিনি দাবি করেছিলেন, পুর কমিশনারের কাছে তিনি চারজনের নাম জমা দিয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পত্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “বেলেঘাটার রাজু নস্করের ১৮টি সম্পত্তি, কসবার সোনা পাপ্পুর ২৪টি সম্পত্তি, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে ১৪টি, নিজের নামে ৪টি এবং বাবার নামে আরও ৬টি মিলিয়ে মোট ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া জাভেদ খানের ছেলের নামে ৯০টি সম্পত্তি রয়েছে। এরা লুঠ করেছে।” একইসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে যেমন শান্তনু সিনহা ও সুজিত বোসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চলছে, তেমনই আগামী দিনে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও আইন মেনেই ব্যবস্থা নেবে বিজেপি সরকার।
