Jahangir Khan
Bengal Liberty, ১৮ মে :
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন। ঠিক তার আগেই আইনি সুরক্ষার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ফলতা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি উত্থাপন করলে মামলা করার অনুমতি দেয় আদালত। দুপুর ২ টো নাগাদ মামলার শুনানি হবে।জাহাঙ্গির খানের আশঙ্কা, ভোটের আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। রাজ্যে তাঁর নামে ঠিক কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই তথ্যও আদালতের কাছে স্পষ্ট করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। যদিও কদিন আগেই এই জাহাঙ্গির খান রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “ভোট শেষ হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তারপরই এত তাড়াতাড়ি গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাই কোর্টের স্মরণাপন্ন হলেন কেন (Jahangir Khan)?

ঠিক কী দাবি জাহাঙ্গিরের? (Jahangir Khan)
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জরুরি ভিত্তিতে নিজের বক্তব্য পেশ করেন জাহাঙ্গির খান। তাঁর আবেদন শুনে আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দেয় এবং জানানো হয়, দুপুর ২টোয় বিষয়টির শুনানি হবে। আদালতে জাহাঙ্গিরের দাবি, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে রাজ্যে তাঁর নামে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই নির্দিষ্ট তথ্যও প্রশাসনের কাছে নেই বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাই রাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি মামলা রয়েছে, তা স্পষ্ট করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ভোটের আগে এই আইনি লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হতে পারে।

“জাহাঙ্গির”- রাজনীতির ময়দানে অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম (Jahangir Khan)
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতির ময়দানে জাহাঙ্গির খান দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক তথা উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয়পাল শর্মার সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ ও টানাপোড়েন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, ফলতা ও সংলগ্ন এলাকায় বুথ দখল, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাসের রাজনীতির নেপথ্যে জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠদেরই ভূমিকা ছিল।ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর ফলতার একাধিক বুথে অশান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। আর সেই পুনর্নির্বাচনের আগেই জাহাঙ্গির খানের হাইকোর্টে যাওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। এখন নজর আদালতের দিকে, ভোটের আগে হাইকোর্ট তাঁর জন্য কোনও আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ দেয় কি না, সেটাই দেখার।
