Kakali Y Plus Security
Bengal Liberty, ২০ মে:
একদিকে যখন ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা ছাঁটাই করা হচ্ছে, ঠিক তখনই মধ্যমগ্রামে তৃণমূল সাংসদের বাড়ির দখল নিল কেন্দ্রীয় বাহিনী (Kakali Y Plus Security)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে রাতারাতি মোতায়েন সিআইএসএফ জওয়ানরা!

কেন্দ্রীয় বাহিনীতে মুড়ল সাংসদের বাড়ি Kakali Y Plus Security
সোমবার থেকেই তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বাড়িতে দেখা গিয়েছে সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানদের কড়া পাহারা। এমনকি মধ্যমগ্রামে তাঁর বাসভবনের সামনে এখন মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, জানা যাচ্ছে সাংগঠনিক কোনো বৈঠক বা দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার সময়ও জওয়ানরা তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকছেন।

অভিষেক-ফিরহাদের নিরাপত্তা ছাঁটাই বনাম কাকলির সুরক্ষা
গদিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নিরাপত্তা ও কনভয় অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঠিক সেই সময় একজন তৃণমূল সাংসদকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কেন বিশেষ নিরাপত্তা দিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
দলের সাথে দূরত্ব ও ‘বিদ্রোহী’ সুর
অনেকের মতে এই নিরাপত্তার নেপথ্যে থাকতে পারে দলের সাথে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব। গত বছর আগস্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফার পর কাকলিকে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক পদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মাত্র নয় মাসের মাথায় তাঁকে সরিয়ে ফের কল্যাণকেই সেই পদে ফেরানো হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সাংসদ। ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম”। তাঁর এই পোস্ট এবং পরবর্তীতে তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের ‘বিদ্রোহী’ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে তার সাথে সম্পর্ক একদমই ঠিক নেই।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
অভিষেক-ফিরহাদদের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে কাকলি কি তবে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের পথে হাঁটছেন? কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দলের প্রতি অভিমানী সুর এই দুইয়ে মিলে বর্তমানে বারাসাত ও মধ্যমগ্রামের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তৃণমূলের গদিচ্যুত হওয়ার পর এই ধরণের প্রশাসনিক রদবদল কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
