Swasthya Bhavan
Bengal Liberty, ২৩ মে :
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনার পর রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘দাদাগিরি’, প্রভাব খাটানো এবং চিকিৎসক মহলের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার কেন্দ্রেই উঠে এসেছিল চিকিৎসক অভীক দের নাম (Swasthya Bhavan)। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য ভবন। শুধু তাই নয়, তিনি কীভাবে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে এসএসকেএম হাসপাতালে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, তা নিয়েও পৃথক অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিলম্বিত থাকা অভীককে ঘিরে অতীতে ওঠা একাধিক অভিযোগ, আরজি কর-কাণ্ডের রাতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন এবং সরকারি হাসপাতালে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নতুন করে সামনে আসতেই স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে চিকিৎসক মহলের একাংশ (Swasthya Bhavan)।

ভর্তিতে কোটা-দুর্নীতি (Swasthya Bhavan)
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়োডায়াগনসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও থেকে আচমকাই এসএসকেএম হাসপাতালে জেনারেল সার্জারি বিভাগের স্নাতকোত্তর ট্রেনি হয়ে ওঠেন অভীক। এই উত্থানের নেপথ্যে ছিল ‘সার্ভিস কোটা’-র ঘোরতর অপব্যবহার, এমনটাই অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। শনিবার স্বাস্থ্য ভবনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘দাদাগিরি’র অভিযোগের বিভাগীয় তদন্তই নয়, কীসের জাদুবলে তিনি স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ বাগিয়েছিলেন, তারও চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে এক পৃথক অনুসন্ধান কমিটি। উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিলম্বিত থাকা এই চিকিৎসককে এসএসকেএম-এর ইমার্জেন্সি, ওটি, বহির্বিভাগ থেকে শুরু করে হস্টেল চত্বরেও কড়া ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

আড়াল করার চেষ্টা ব্যর্থ (Swasthya Bhavan)
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়ার মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দিন, নিজের হাসপাতাল এসএসকেএম ছেড়ে ঘটনাস্থলে অভীকের রহস্যজনক উপস্থিতি ঘিরেই শুরু হয় বিতর্কের ঝড়। এরপর রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল লোক দেখানো পদক্ষেপ করে তাঁকে বৈঠক থেকে বয়কট করলেও, মাত্র চার মাসের মাথাতেই সেই ডিসেম্বরেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয়, যা নিয়ে স্বজনপোষণের স্পষ্ট গন্ধ পেয়েছিলেন রাজ্যের চিকিৎসকেরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আড়াল কার্যত চুরমার। স্বাস্থ্য দফতরের এই বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশকে জোরালো ভাষায় স্বাগত জানিয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম’। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শুধু অভীক নয়, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মাথাকেই অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এখন দেখার, জোড়া তদন্তের এই সাঁড়াশি চাপে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা আরও কত রাঘববোয়ালের মুখোশ আগামী দিনে খসে পড়ে।

