Bengal Liberty
টানা আমরণ অনশনের জেরে গুরুতর অসুস্থ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। কেন্দ্রীয় সরকারি সফদারজং হাসপাতাল থেকে তাঁর পছন্দের বেসরকারি হাসপাতাল মেদান্তে স্থানান্তরের অনুমতি দিল দিল্লি হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কড়িয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ওয়াংচুককে মেদান্তে স্থানান্তরিত করার বিষয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই।
গত ২৪ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET-UG) সহ বিভিন্ন জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে আমরণ অনশনে বসেছিলেন সোনাম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেও আন্দোলনকারীরা সরব হন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি Sonam Wangchuk
দীর্ঘ অনশনের ফলে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর রক্তে পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং শর্করার মাত্রা কমে যায়। শারীরিক ঝুঁকি বিবেচনা করে গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি সফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ, সফদারজং হাসপাতালে ওয়াংচুককে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর পূর্ণ আস্থা না থাকায় তাঁকে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
আরও খবর

ডিভিশন বেঞ্চে স্বস্তি
প্রথমে বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণার সিঙ্গল বেঞ্চ এই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অনশনকারীর জীবন রক্ষার স্বার্থেই সরকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে, ফলে একে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন বলা যায় না। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেন গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। মঙ্গলবার শুনানিতে সোনাম ওয়াংচুকের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অখিল সিব্বল। আদালতের প্রশ্নের উত্তরে সফদারজং হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন অনাহারে থাকার ফলে শরীরের ফ্যাট ভাঙতে শুরু করেছে। এর জেরে রক্ত ও মূত্রে কেটোনের মাত্রা বেড়েছে, পাশাপাশি ইউরিয়া ও ইউরিক অ্যাসিডও বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত ডিহাইড্রেশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও সংকটজনক হয়েছে। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও তরল সরবরাহ না হলে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
শুনানির সময় কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে জানান, ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে কেন্দ্রের কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়। এরপরই দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়।


