EB Market Raid
Bengal Liberty: চিনি ও চালের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রুখতে তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার কোলে মার্কেট সহ একাধিক বাজারে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ বা ইবি-র (Enforcement Branch) বিশেষ টিম। গত কিছুদিন ধরে চিনি, তেল থেকে শুরু করে রসুন ও চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি ও অনিয়ম নজরে আসতেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

নবান্নের কড়া বার্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা (EB Market Raid)
সম্প্রতি নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বেআইনিভাবে খাদ্যদ্রব্য মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে দাম বৃদ্ধির নেপথ্যের কারণ ও ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অন্যায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। ইথানল সংকটকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে চিনির দামে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটায় সাধারণ মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে টান পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে আসরে নামে প্রশাসন।

কলকাতাসহ বিভিন্ন বাজারে ইবির অভিযান (EB Market Raid)
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরই লালবাজারের পক্ষ থেকে ইবি-র ১০টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার বড় বড় পাইকারি ও খুচরো বাজারগুলিতে শুরু হয় আচমকা অভিযান। উত্তর কলকাতার শিয়ালদহের কোলে মার্কেট থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারে গিয়ে দোকানগুলিতে মজুতদারি ও সঠিক দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। এছাড়াও গড়িয়াহাট ও ঢাকুরিয়া মার্কেটেও ইবির টিম গিয়ে খতিয়ে দেখছেন। চিনির পাশাপাশি চাল ও ভোজ্য তেল বেআইনিভাবে জমিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।

শুধু কলকাতাই নয়, জেলার বাজারগুলিতেও প্রশাসনিক নজরদারি শুরু হয়েছে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে ও হোটেলগুলিতে প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা সরজমিনে পরিদর্শন চালান। অনভিপ্রেতভাবে খাদ্যদ্রব্য মজুত করা হচ্ছে কি না এবং খাদ্য সুরক্ষার মান ঠিক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে রাজ্য প্রশাসনের এই ধারাবাহিক ও কঠোর পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

