Narendra Modi
Bengal Liberty
পরীক্ষায় অনিয়ম, বেকারত্ব-সহ একাধিক ইস্যুতে দেশজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ। বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে । একইসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে আন্দোলনও সংগঠিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় সংগঠন ও জনসংযোগ আরও মজবুত করতে বিজেপির ক্যাডার এবং জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ বার্তা দিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

সূত্রের খবর, মানুষের আরও কাছে পৌঁছনোর জন্য দলীয় কর্মীদের মাঠে বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় আরও বেশি সময় কাটিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে বাড়তে থাকা সমালোচনার মোকাবিলায় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার বিজেপির নতুন পদাধিকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ বৈঠকের পরই এই নির্দেশ সামনে এসেছে। প্রায় চার ঘণ্টার ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এবং পূর্ণ উদ্যমে সংগঠনের কাজ শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও নিবিড় করার পাশাপাশি জনসংযোগের পুরনো পদ্ধতিগুলিকে নতুন করে সাজানোর কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে।

সমস্যা মোকাবিলায় নতুন কৌশল
বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির দাবি, জাতীয় ও রাজ্যস্তরের পদাধিকারীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে সমসাময়িক সমস্যার মোকাবিলায় নতুন পদ্ধতি ও নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করার জন্য দলের নতুন নেতৃত্বকে আহ্বান জানান তিনি। তার কথায়, মানুষের বর্তমান সমস্যাগুলির সমাধানে নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন রয়েছে বলে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। নতুন নেতৃত্বকে নতুন ধারণা নিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য , রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন ইস্যুতে NDA সরকারের ওপর বিরোধীদের চাপ বাড়ছে। তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছতে কংগ্রেস রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ নামে দেশব্যাপী প্রচার শুরু করেছে। অযোধ্যায় অনুদান সংক্রান্ত বিতর্ককে সামনে রেখে সক্রিয় হয়েছে সমাজবাদী পার্টিও। পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংয়ের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে ‘স্কুল ঠিক করো অভিযান’ শুরু করেছে আম আদমি পার্টি।

এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং মানুষের সমস্যা আরও কাছ থেকে বোঝার ওপর বিজেপি নেতৃত্বের এই জোর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সংগঠনের কর্মী থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি—সকলকেই আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছনোর বার্তা দিয়ে কার্যত নির্বাচনের আগে জনসংযোগে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিজেপি।

