WB assembly election 2026
Bengal Liberty, কলকাতা :
পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই পশ্চিমবঙ্গে ঘোষণা হতে চলেছে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ( WB assembly election 2026)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে রাখা হয়েছিল। তাঁদের ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।

আজ ঘোষণা হতে পারে ভোটের দিন WB assembly election 2026
আজ বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোট ঘোষণার পরেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। তার আগেই কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ৬০ লক্ষাধিক ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে। যদিও কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই একটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

আদালতের তত্ত্বাবধানে চলছে যাচাই
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখছেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। বর্তমানে ৭০০ জনেরও বেশি আধিকারিক এই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত অসম্পূর্ণ তালিকায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বিবেচনাধীন ছিল। শনিবার পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রায় ১৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে।
কিছু জেলায় এই কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলায় বিবেচনাধীন নাম নিষ্পত্তির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং সেখানে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহ জেলায় এখনও অনেকটা কাজ বাকি রয়েছে। এই জেলাগুলিতে বিবেচনাধীন নামের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
এই পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
ভোটার সংখ্যায় বড় পরিবর্তন
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় মোট ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জনের নাম ছিল। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী যোগ্য ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনে।
বিবেচনাধীন নামগুলির যাচাই শেষ হলে সেই তালিকা বিচারপতির কাছে জমা দেওয়া হবে এবং তাঁর অনুমোদনের পর নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এরপরই কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে এবং আদালতের অনুমতি নিয়েই সেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকা পেশ করা হবে।
ভোটের আগে আরও তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা
কমিশন সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই একটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। রাজ্যের ভোটের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বর্তমানে রাজ্যের বাইরে থাকায় আলোচনা করতে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানা গেছে। তবে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভোট ঘোষণার পরেও প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যেসব ‘বিবেচনাধীন’ নামের নিষ্পত্তি হবে, সেগুলি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আদালতে যাওয়ার সুযোগ
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁরা বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। তবে সেই পদ্ধতি নিয়েও এখনও কিছু ধোঁয়াশা রয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে আরও জানা গেছে, এবার পশ্চিমবঙ্গে আগের তুলনায় কম দফায় ভোট হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে, বাংলা নববর্ষের পর অর্থাৎ ১৫ এপ্রিলের পরে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হবে।
তবে তার আগে বিবেচনাধীন সব নামের নিষ্পত্তি হবে কি না, আর যদি না হয় তাহলে সেই ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা যে কোনও নির্বাচনের একটি মৌলিক শর্ত। এই পরিস্থিতিতে ঝুলে থাকা ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে সুপ্রিম কোর্টকেই। ভোট ঘোষণার পর এই বিষয়টি আবারও আদালতে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
