Dilip Ghosh Threat Controversy
Bengal Liberty Desk, ১৮ মার্চ, কলকাতা: নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানো এবং নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের (MCC) গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের অভিযোগ, দিলীপ ঘোষ প্রকাশ্যে শ্যামপুকুরের বিধায়ক শশী পাঁজা ও কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রর বাড়ি লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। কালীঘাট ও চেতলা এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের (Dilip Ghosh Threat Controversy)।
বিস্ফোরক অভিযোগ ও ভাইরাল ভিডিয়ো (Dilip Ghosh Threat Controversy)

গত ১৬ই মার্চ তৃণমূলের পক্ষ থেকে ডেরেক ও’ব্রায়েন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি পাঠান, যা আজ, বুধবার কমিশনে গৃহীত হয়েছে। চিঠি সহ একটি ভিডিয়ো পাঠানো হয়েছে, যেখানে দিলীপ ঘোষকে বলতে শোনা গিয়েছে, “শশী পাঁজার বাড়িতে যদি হামলা হতে পারে, তবে কালীঘাট এবং মদন মিত্রের বাড়িতেও তেমন হতে পারে”। তৃণমূলের দাবি, এই মন্তব্য উস্কানিমূলক এবং সাধারণ ভোটারদের মনে ভয় সঞ্চার করার চেষ্টা।
‘পিটিয়ে লাটে তুলে দেব’— বিতর্কিত বয়ান (Dilip Ghosh Threat Controversy)
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দিলীপ ঘোষ তাঁর কর্মীদের উদ্দশ্য করে বলেছেন, “আমাদের কর্মীরা তৈরি হয়ে আছে… এরপর খালি মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা হবে না, অনেক জায়গায় বাঁধা হবে”। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, বহিরাগত লোক লাগবে না, তাঁর কর্মীরাই গোটা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে পেটাতে সক্ষম। তৃণমূলের মতে, এটি সরাসরি ভারতীয় দণ্ডবিধি (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের লঙ্ঘন।
তৃণমূলের ৫ দফা দাবি (Dilip Ghosh Threat Controversy)-

নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল কংগ্রেস পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে দিলীপ ঘোষকে শোকজ করতে হবে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩৫১ (অপরাধমূলক হুমকি) এবং ১০৯ (প্ররোচনা) ধারায় এবং আরপি অ্যাক্টের ১২৩(২) ধারায় FIR দায়ের করার নির্দেশ দিতে হবে।
বিধায়ক শশী পাঁজা, মদন মিত্রের বাসভবন এবং কালীঘাট ও চেতলা এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করতে হবে।
এই ধরণের আচরণের জন্য বিজেপির কাছে ব্যাখ্যা তলব করতে হবে।
দিলীপ ঘোষকে এই মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপত্তিকর ভিডিয়োটি সরিয়ে ফেলতে হবে।
তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিন থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে, যা দিলীপ ঘোষ তোয়াক্কা করছেন না।
আরও পড়ুন (Dilip Ghosh Threat Controversy)-
ভোটের আগে ‘হঠাৎ আবির্ভাব’! (Rinku Majumdar Ticket Demand) টিকিটের দৌড়ে দিলীপ ঘোষের স্ত্রীর এন্ট্রি ঘিরে দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ
Rinku Majumdar: সমাজমাধ্যমে কুৎসা ও কটাক্ষে ক্ষুব্ধ, আইনি পথে দিলীপ ঘোষ–রিঙ্কু দম্পতি
ডেরেক ও’ব্রায়েন চিঠিতে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশ দিতে কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এখন দেখার, এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পধক্ষেপ করে কি না।
