BJP third Candidate List
Bengal Liberty, ১৯ মার্চ :
রাজ্যের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু আর জি কর কাণ্ড এবার সরাসরি ঢুকে পড়তে চলেছে নির্বাচনী অঙ্কে (Panihati BJP Candidate)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ঘিরেই এবার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছে নিহত চিকিৎসকের মায়ের নাম, যা শুধু প্রার্থী ঘোষণা নয়, বরং আবেগ, ক্ষোভ এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে ভোটের মঞ্চে তুলে ধরার এক বড় রাজনৈতিক বার্তা। ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে কী বললেন অভয়ার মা ও বাবা? (Panihati BJP Candidate)

রাজনীতির ময়দানে ‘ন্যায়বিচারের লড়াই (Panihati BJP Candidate)
নিজেই নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন নিহত চিকিৎসকের মা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, প্রথমে প্রস্তাব এলেও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর অবস্থান বদলেছে।
তাঁর কথায়, রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং সর্বস্তরে দুর্নীতির চিত্র তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে তিনি মূলত ‘ন্যায়বিচার’ এবং ‘ব্যবস্থার পরিবর্তন’-এর দাবিকেই সামনে আনতে চান। তাঁর মতে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটি এখন বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি দেখলাম, রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা নেই এবং রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। এতে কেউই ভালো নেই। তাই তৃণমূলের মূল উপড়ে ফেলার জন্য আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি।”

নারী নিরাপত্তা ও দুর্নীতি-প্রচারের মূল ইস্যু (Panihati BJP Candidate)
প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার পিছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা রেখেছেন তিনি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে নারীরা সুরক্ষিত নন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। অভিযোগ, তাঁর মেয়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন। তাই নির্বাচনী প্রচারে এই বিষয়গুলিকেই সামনে রেখে জনমত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
https://t.co/g6mfuZ9AmQ https://t.co/4TTUHXvo1t
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 19, 2026
একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলেই তাঁদের মেয়ের মৃত্যুর বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। আর সেই কারণেই বিজেপিকেই তিনি বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অভয়ার মায়ের কথায়, “আমিই ফোন করে বলেছিলাম যে আমি প্রার্থী হতে চাই। আমার মনে হয়েছে যে আমার মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। তাই ওদের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি।”

অভয়ার বাবার ক্ষোভ প্রকাশ্যে (Panihati BJP Candidate)
এদিকে পড়ুয়া চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিহত চিকিৎসকের পরিবার। তাঁর বাবা স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন, অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থে এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন, প্রকৃত ন্যায়বিচারের জন্য নয়।
তাঁর বক্তব্য, তাঁদের ব্যক্তিগত লড়াই এবং মানসিক অবস্থার কথা কেউই বোঝার চেষ্টা করেননি। বরং মেয়ের মৃত্যুকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেই অভিযোগ তাঁর। অভয়ার বাবার কথায়, “আন্দোলনে যুক্ত ছিল, তারা কেউ জানে না। প্রথম থেকেই উদ্দেশ্য খারাপ ছিল ওদের। আমার মেয়ের মৃত্যুকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছে।”
সব মিলিয়ে, একদিকে শোক ও ক্ষোভ, অন্যদিকে রাজনৈতিক ময়দানে সরাসরি অংশগ্রহণ-এই দুইয়ের মিশেলে আরজি কর কাণ্ড এবার বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।
