Arabul Islam
Bengal Liberty, ২০ মার্চ :
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে আইএসএফ (Arabul Islam)। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ, শুক্রবার বেলা ৩টের সময় ফুরফুরা শরীফের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তারা জানাবে কোন কোন আসনে প্রার্থী দেবে। ইতিমধ্যেই বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে (Arabul Islam)।
সিপিএম- এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট করেছেন, আইএসএফ ও লিবারেশনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে এবং কয়েকটি আসন নিয়ে এখনও আলোচনা বাকি। বামফ্রন্ট ও লিবারেশন মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ২৩৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে। বাকি ৬০ আসনের মধ্যে আইএসএফ এবং লিবারেশন কতগুলি আসনে প্রার্থী দেবে, তার উপরে নির্ভর করবে বামফ্রন্টের মোট প্রার্থী কত হবে। তারই মধ্যে জল্পনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে এসেছে সদ্য যোগদানকারী প্রভাবশালী নেতা আরাবুল ইসলাম।

আরাবুল ইসলামের দলবদলে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নতুন জল্পনা (Arabul Islam)
ভোটের মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর এই লড়াইয়ে ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রে আছে প্রভাবশালী নেতা আরাবুল ইসলাম। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি আইএসএফে যোগ দিয়েছেন। ফুরফুরা শরীফে এই যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
দল ছাড়ার আগে থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আরাবুল। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেও তিনি পেয়েছেন অবহেলা ও বঞ্চনা। দলবদলের পর আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কানে নয়, চোখ দিয়ে শোনেন।” পাশাপাশি ভাঙড়ের তৃণমূল নেতৃত্বকে নিশানা করে তিনি শওকত মোল্লাকে ‘সন্ত্রাসের কারিগর’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, ভাঙড়ে অত্যাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতেই তিনি আইএসএফে যোগ দিয়েছেন।

প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ভাঙড়েই কি লড়বেন আরাবুল? (Arabul Islam)
আরাবুল ইসলামের আইএসএফে যোগদানের পর থেকেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তিনি ২০২৬-এর নির্বাচনে কোন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন? যদিও দল এখনও কিছু জানায়নি, রাজনৈতিক মহলের মতে ভাঙড়ই তাঁর সবচেয়ে সম্ভাব্য কেন্দ্র। কারণ, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি এবং বর্তমানে আইএসএফেরও অন্যতম শক্তিশালী এলাকা।
তবে বিকল্প হিসেবে ক্যানিং পূর্ব বা পশ্চিম আসনের কথাও উঠে আসছে, যেখানে তাঁর প্রভাব যথেষ্ট। অন্যদিকে, নওশাদ সিদ্দিকি নিজেও ভাঙড় কেন্দ্রের বর্তমান মুখ, ফলে একই আসনে দুই প্রভাবশালী নেতার অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এই পরিস্থিতিতে কাইজার আহমেদের নামও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও তাঁর দলবদলের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও মেলেনি, তবু ভাঙড়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে তা বলাই যায়।
