Calcutta High Court
Bengal Liberty Desk, ২০ মার্চ, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক রদবদল। নির্বাচন কমিশন (ECI) গত কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ডিজিপি-সহ প্রায় ৬০ জন আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিককে বদলি করেছে। কমিশনের এই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আজ, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে। মামলাকারীর পক্ষে বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এ ভাবে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর অধিকার নেই নির্বাচন কমিশনের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পার্টি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলার মূল ভিত্তি (IAS IPS Transfer Case HC)
আবেদনকারীর দাবি, নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই গণহারে এই বদলি করছে, যা ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো’র পরিপন্থী। মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ বা গাফিলতি ছাড়াই কেন এত বিপুল সংখ্যক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে নির্বাচনের ঠিক আগে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের আইএএস, আইপিএস-দের অন্য রাজ্যে পাঠানোয় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়। কমিশনের এই বদলির সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়ের করার অনুমতি চান কল্যাণ।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ (IAS IPS Transfer Case HC)
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এদিন এই জনস্বার্থ মামলাটির উল্লেখ করা হয়েছে। কল্যাণের আবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া চিঠি (IAS IPS Transfer Case HC)
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে এই ‘আকস্মিক ও একতরফা’ বদলির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-র দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই কমিশন কাজ করছে এবং এর ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভোটের বিধি উঠে গেলেই এই আধিকারিকরা আবার তাঁদের পুরোনো পদে ফিরবেন।
আরও পড়ুন (IAS IPS Transfer Case HC)-
I-PAC মামলায় ফের বিলম্ব, (I-PAC Case Hearing) ১৮ মার্চে শুনানি, ইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কল্যাণ
IPS Transfer : ভোটের আগে পুলিশে বড়সড় রদবদল, ১৫ আইপিএসকে ভিন রাজ্যে পাঠাল নির্বাচন কমিশন
অন্যদিকে, বিজেপি দাবি করেছে যে, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতেই স্থানীয় প্রভাবমুক্ত আধিকারিকদের নিয়োগ করা জরুরি এবং এটি একটি স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া।
