CM resignation boards
Bengal Liberty, Kolkata:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রাক্কালে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী (CM resignation boards)। নির্বাচন আচরণবিধি মেনে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা, পর্ষদ ও কমিটির শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, যা সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ২৩টি সংস্থা ও কমিটির চেয়ারম্যান বা প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই ইস্তফা গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতায় জোর
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন পদে থেকে ভোটারদের প্রভাবিত করার সম্ভাবনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে তা দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করে তুলবে।
যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী
সরকারি তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র জুড়ে রয়েছে এই পদত্যাগ:
স্বাস্থ্য ক্ষেত্র: স্টেট হেলথ মিশন, সোসাইটি ফর হেলথ অ্যান্ড ডেমোগ্রাফিক সার্ভেইল্যান্স
পরিবেশ ও উন্নয়ন: স্টেট বোর্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ, ইকো ট্যুরিজম অ্যাডভাইজারি বোর্ড, স্টেট ল্যান্ড ইউজ বোর্ড
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য: বাংলা সংগীত মেলা আয়োজন কমিটি, পুরস্কার প্রদান কমিটি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি
শিক্ষা ও শিল্প: উর্দু অ্যাকাডেমি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বোর্ড, পশ্চিমবঙ্গ স্কিল ডেভেলপমেন্ট মিশন
সুরক্ষা: স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি
ডেডলাইন ২৫ মার্চ
স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে কি না, তার বিস্তারিত রিপোর্ট ২৫ মার্চ বিকেল ৪টার মধ্যে ইমেলের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। নবান্নের এই দ্রুত পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট—নির্বাচনের আগে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতা রাখতে নারাজ রাজ্য সরকার।
প্রশাসনিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা নেবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
