AI Camera Election
Bengal Liberty Desk, ২৯ মার্চ: ভোটের আর এক মাসও বাকি নেই, তার আগেই প্রস্তুতিতে জোরদার গতি এনেছে নির্বাচন কমিশন। এবার প্রতিটি বুথে বসানো হচ্ছে AI চালিত ক্যামেরা, যাতে ভোট চলাকালীন কোনও অশান্তি বা অনিয়ম মুহূর্তে ধরা পড়ে। কমিশনের দাবি, এবারের ভোট হবে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত।
সূত্রের খবর, এবার শুধুমাত্র সাধারণ ওয়েবকাস্টিং নয়, বরং AI-ভিত্তিক স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে ২ থেকে ৩টি করে ক্যামেরা থাকবে, যা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে পুরো পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করবে। ভোটারদের চলাফেরা, ভিড়ের ঘনত্ব, আচরণ সব কিছুই নজরে রাখবে এই ক্যামেরা। কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন অনুযায়ী, একসঙ্গে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি ভোটার বুথের ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। যদি সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়, AI ক্যামেরা তা সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করে সতর্কবার্তা পাঠাবে। এর ফলে বুথে অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
কঠোর নজরদারি (AI Camera Election)!

তবে এবার নজরদারির কাঠামোও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে আসন্ন বিধানসভার ভোটে। জানা যাচ্ছে প্রথম স্তরে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার, দ্বিতীয় স্তরে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, তৃতীয় স্তরে সিইও অফিস এবং চতুর্থ স্তরে দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে সরাসরি নজরদারি চলবে। ফলে কোনও ঘটনা নজর এড়ানোর সুযোগ থাকছে না বলেই দাবি কমিশনের।
কন্ট্রোল রুমে নজর (AI Camera Election)
উল্লেখ্য, প্রতিটি জেলায় তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম, যেখানে একসঙ্গে বহু বুথের লাইভ ফিড দেখা যাবে। জানা গিয়েছে, শতাধিক স্ক্রিনে এই নজরদারি চলবে। শুধু বুথ নয়, ফ্লাইং স্কোয়াডের গাড়িতেও ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, যাতে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিও রিয়েল-টাইমে ধরা পড়ে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া উপস্থিতি (AI Camera Election)
বুথের প্রবেশপথে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তাঁদের মূল কাজ থাকবে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রযুক্তির পাশাপাশি মানব নজরদারিও সমানভাবে সক্রিয় রাখা হচ্ছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, কোথাও কোনও অশান্তি, ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়ম ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। AI ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্ভুলতা কতটা নিশ্চিত (AI Camera Election)?

তবে এই AI নির্ভর ব্যবস্থার নির্ভুলতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের মতে, ক্যামেরা থেকে যে ‘অ্যালার্ট’ বা ‘মেসেজ’ যাবে, তা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে। ভুল শনাক্তকরণ হলে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বহু মানুষ ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নোটিস পেয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, নাম বা পদবির সামান্য পার্থক্যও AI সঠিকভাবে ধরতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতার জেরেই নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ভোটের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কতটা নির্ভরযোগ্য?
রাজনৈতিক চাপানউতোর (AI Camera Election)
এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছে। কেউ বলছে, এতে স্বচ্ছতা বাড়বে, আবার কেউ বলছে, এতে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের একাংশ এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানালেও, অন্য অংশের মধ্যে রয়েছে সংশয়। তাঁদের প্রশ্ন, প্রযুক্তি যদি ভুল করে, তার দায় নেবে কে? ফলে সুবিধার পাশাপাশি ভোগান্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন-
Birbhum CRPF controversy: ডিউটির মাঝেই তৃণমূল পার্টি অফিসে জওয়ান! বীরভূমে ক্যারাম বিতর্কে তৎপর কমিশন
Malda Police Observer Transfer: তৃণমূলের অভিযোগে মালদায় পুলিশ পর্যবেক্ষক বদলি? কমিশনের তৎপরতায় চাপে শাসক
সব মিলিয়ে এবারের ভোটে AI-নির্ভর নজরদারি একটি বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। কমিশনের কড়া অবস্থান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার এই দুইয়ের সমন্বয়ে ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ হয়, সেটাই এখন দেখার।
