Nandigram political conflict
Bengal Liberty, Kolkata:
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ঘিরে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ। Nandigram political conflict বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার কর্মী শেখ রাসিবুল ইসলাম- এর উপর সামাজিক বয়কট, ভয় দেখানো এবং মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শাসক দলকে সরাসরি আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
.
তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রামে তাদের চিরাচরিত সংকীর্ণ রাজনীতির পরিচয় দিতে শুরু করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম দল বিজেপির মাইনরিটি মোর্চার রাকিবুলসহ রাষ্ট্রবাদী মুসলিম ভাইদের সামাজিকভাবে বয়কট, এমন কি পানীয় জল টুকু বন্ধ করার মতো অত্যাচার শুরু করেছে। যদিও এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার কাছে আমার… pic.twitter.com/HhEo6G9rJh
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) April 1, 2026
টুইটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
এদিন শুভেন্দু অধিকারী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে শাসক দলের বিরূদ্ধে সরব হন, তিনি বলেন নন্দীগ্রামে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সঙ্গে যুক্ত শেখ রাসিবুল ইসলাম সহ বেশ কিছু কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে সামাজিকভাবে বয়কট করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে তাঁর দাবি, যা তিনি ‘চরম অমানবিক’ বলে অভিহিত করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ Nandigram political conflict
এই ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ভেকুটিয়া অঞ্চলের দেওয়ান চক গ্রামে যান এবং বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার কর্মী রাকিবুলসহ অন্যান্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
‘রাষ্ট্রবাদী মুসলিম’ ইস্যুতে জোর বিজেপির Nandigram political conflict
শুভেন্দু তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে ‘রাষ্ট্রবাদী মুসলিম’ সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এই সংখ্যালঘু কর্মীরা কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন। এই বিষয়টিকেই তিনি গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রসঙ্গ
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজের রাজনৈতিক মত ও পথ বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাঁর মতে, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সামাজিকভাবে বয়কট করা সংবিধানের মূল চেতনাকেই আঘাত করে। তিনি বলেন “বিজেপি করা তো কোনোও অপরাধ নয়। ভারতবর্ষের সংবিধান মোতাবেক দেশের সমস্ত নাগরিকদের তাদের নিজস্ব মত, বিশ্বাস ও পথ নির্বাচন করার অধিকার রয়েছে।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ, ‘নতুন কিছু নয়’
তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয় এবং অতীতেও একাধিকবার এমন অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, শাসক দল বিরোধীদের দমন করতে প্রশাসনিক ও সামাজিক চাপ প্রয়োগ করছে। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন, বিজেপি কর্মীদের উপর এই ধরনের অত্যাচার চলতে থাকলে দল চুপ করে থাকবে না। তাঁর কথায়, “বর্তমানের বিজেপি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।” তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারে দল।
নন্দীগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে সাধারণ মানুষের উপর এর প্রভাব কী পড়ে এবং প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
