Naxalbari Uprising History
Bengal Liberty, ৩১ মার্চ ২০২৬:
১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা দার্জিলিং-এ শুরু হয়েছিল এক রক্তাক্ত ইতিহাস (Naxalbari Uprising History), যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, রণনীতি এবং মানচিত্র—সবকিছুই আমূল বদলে দেয়। নকশাল আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল বামপন্থী ভাবধারাকে কেন্দ্র করেই। যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন, যাদের দু-বেলা অন্ন জোটে না, তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই শুরু হয়েছিল এই সংগ্রাম। গরিব মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে এবং সামন্ততান্ত্রিক জমিদারদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পায়—এটাই ছিল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া (Naxalbari Uprising History):
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চরম রূপ ধারণ করে। শেষমেশ বন্দুক ও বারুদের এই লড়াইয়ে জয়ী হলো আদর্শ, জয়ী হলো শিক্ষা ব্যবস্থা এবং জয়ী হলো সেই সাধারণ মানুষ—যারা জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসতে বদ্ধপরিকর। পাঁচ দশকের রক্তাক্ত অধ্যায়ের ইতি টেনে সবাই আজ জীবনের মূল ধারায় ফিরতে প্রস্তুত।

নকশালবাড়ি আন্দোলনের সূচনা – ১৯৬৭ (Naxalbari Uprising History):
দার্জিলিং জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম ‘নকশালবাড়ি’। কে জানত, এই গ্রাম থেকেই ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস নতুন করে লেখা হবে! ২৬ মে, ১৯৬৭—জমিদারি অত্যাচার তখন চরমে। কৃষকদের নিজের জমিতে চাষ করা পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল। চাষ করতে গেলেই চলত অকথ্য নির্যাতন, কেড়ে নেওয়া হতো জমি। সেই সময় পুলিশ ছিল অনেকটা নির্বাক দর্শকের ভূমিকায়। নিজেদের অধিকারের দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান বহু গরিব চাষি। সেই আগ্নেয়গর্ভ পরিস্থিতি থেকেই আবির্ভাব ঘটে চারু মজুমদার ও কানু সান্যালের। জমিদারদের বিরুদ্ধে শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও ভূমি দখল। শ্রমিক-কৃষকদের কণ্ঠস্বর হয়ে গঠিত হয় সিপিআই (এম-এল)।

আদর্শ ও প্রভাব (Naxalbari Uprising History):
নকশালবাদ মূলত মাও সেতুং-এর চিন্তাধারায় প্রভাবিত ছিল। ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তারের পর ২৮ জুলাই পুলিশ হেফাজতে চারু মজুমদারের মৃত্যু হয়। কিন্তু তার প্রয়াণের পরেও এই আদর্শ স্তিমিত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।
মূল স্রোত থেকে বিচ্যুতি:
প্রভাব বিস্তারের সাথে সাথে আন্দোলনটি এমন এক পর্যায়ে চলে যায়, যেখান থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০০৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৫০০ মানুষ।

উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা (Naxalbari Uprising History):
• ২০২১: ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে অতর্কিত হামলায় ২২ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
• ২০২৫: ছত্তিশগড়ে একটি বড়সড় বিস্ফোরণে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে।
Suvendu Adhikari: বিরোধী দলনেতার প্রচারের বহর চোখে পড়ার মতো @bengalliberty @SuvenduWB @BJP4Bengal @MamataOfficial @AITCofficial #bengalliberty #suvenduadhikari #bjpwestbengal #westbengal #westbengalnews #westbengalpolitics #westbengalelection2026 #mamatabanerjee pic.twitter.com/8GK1F3T9rb
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 1, 2026
আন্দোলনের নেপথ্যে মূল কারণসমূহ:
২০১৪ সালের আগে এই আন্দোলনের বিস্তার ব্যাপক থাকলেও বর্তমানে তা শেষের পথে। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পেছনে কিছু মূল কারণ ছিল:
• কর্মসংস্থানের অভাব: সঠিক শিক্ষা ও কাজের অভাব মানুষকে হাতে বন্দুক তুলে নিতে বাধ্য করেছে।
• উন্নয়নের অভাব: দুর্গম এলাকাগুলোতে উন্নয়নের আলো না পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষ দিকভ্রান্ত হয়েছে।
• মৌলিক চাহিদার সংকট: খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের অভাব এবং সঠিক দিশার অভাব এই আগুনকে জিইয়ে রেখেছিল।
• গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা: ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা এবং গঠনমূলক জ্ঞানের অভাব আন্দোলনকে সশস্ত্র পথে ঠেলে দেয়।
নকশালবাদ শুরু হয়েছিল একটি কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা সশস্ত্র মাওবাদী আন্দোলনে পরিণত হয়। আজও ভারতের কিছু দুর্গম অঞ্চলে এর রেশ থাকলেও কেন্দ্র সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও উন্নয়নের জোয়ারে তা আজ বিলুপ্তির পথে। ভবিষ্যতে এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে, সে বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সজাগ ও প্রস্তুত।
আরও পড়ুন:
Suvendu Adhikari Nandigram controversy: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে ঘিরে স্লোগানবাজি, গাড়ি থামিয়ে “ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না” বলে কড়া জবাব দলনেতার!
