Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, Kolkata:
ভোটের আগে আবারও উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। রাজনৈতিক সংঘর্ষের পুরনো স্মৃতি উসকে দিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী Suvendu Adhikari Nandigram controversy। তাঁর সফর ঘিরে এলাকায় হঠাৎ করেই তৈরি হয় উত্তেজনা স্লোগান, কটূক্তি, এবং তারই মাঝে গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি প্রতিক্রিয়া বিজেপি দল নেতার।

কী ঘটেছে?
বুধবার নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের একটি এলাকায় যাচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। উদ্দেশ্য ছিল দলীয় সমর্থক শেখ রাকিবুলের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। বিজেপির দাবি, শুধুমাত্র বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই ওই পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই সেখানে পৌঁছচ্ছিলেন শুভেন্দু। যে এলাকা দিয়ে তাঁর গাড়ি যাচ্ছিল, সেটি স্থানীয়ভাবে শাসকদলঘনিষ্ঠ অঞ্চল বলেই পরিচিত। ঠিক সেই সময় আচমকাই শুরু হয় স্লোগানবাজি। প্রথমে কটূক্তিমূলক স্লোগান, এরপর ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য একটি ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে গাড়ি থামিয়ে নিজেই নেমে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। গাড়ি থেকে নেমে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান— “এইসব করে কোনও লাভ নেই।আমার অধিকার আছে মানুষের কাছে যাওয়ার।আগের মতো আর বাধা দেওয়া যাবে না।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই ধরনের চাপ বা ভয় দেখানোর রাজনীতিকে একেবারেই মানতে নারাজ।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ
পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে শুভেন্দু অধিকারী আরও কড়া সুরে শাসক দলকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং বিরোধী দলকে এলাকায় কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখার চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে তিনি এই পরিস্থিতিকে “মধ্যযুগীয় মানসিকতা” বলেও আখ্যা দেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সেই সময়ও বিরোধীদের এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে এবার আর সেই পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভোটের আগে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে। একদিকে শুভেন্দুর বার্তা সরাসরি মোকাবিলার, অন্যদিকে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বাংলায় বিরোধী রাজনীতির পরিসর আদৌ কতটা উন্মুক্ত।
