Jeetu Kamal controversy
Bengal Liberty, ৪ এপ্রিল ২০২৬ :
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড় টলিউড। শুটিং বন্ধ, মৌন মিছিল, থানায় অভিযোগ দায়ের—সব কিছু নিয়েই বিতর্ক চরমে উঠেছে Jeetu Kamal controversy। এরই মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন “চিরদিনই তুমি যে আমার” খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা জিতু কমল। তাঁর অভিযোগের তীর সরাসরি প্রযোজনা সংস্থার দিকে। একটি সিনেমার শুটিং চলাকালীন জিতু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে আর এন টেগোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি সেই সিনেমার শুটিংয়ে যান কিন্তু পরিস্থিতি একটুও বদলায় নি।
এরপর থেকেই শুরু হয় মানসিক অত্যাচার। শুটিং করার জন্য বারবার হুমকির ফোন আসে, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, এমনকি গায়ে হাত তোলারও অভিযোগ ওঠে। আর্টিস্ট ফোরামের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাই নিজের ছবিতে মালা দিয়ে প্রতিবাদ করছেন অভিনেতা জিতু কমল। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বিস্ফোরক অভিযোগ জিতু কমলের:
” আউটডোর শুটিং করতে গিয়ে আমার শ্বাসনালিতে প্রচুর পরিমাণে ধুলো-বালি জমেছিল। তারপর ১৫ ঘণ্টা শুটিং করার পর আমি পুরোপুরি ব্ল্যাক আউট হয়ে যাই। আমাদের সেক্রেটারি বিশ্বনাথ দাস আমাকে আর এন টেগোর হাসপাতালে ভর্তি করান। সিনেমার প্রযোজক আমার শরীরের অবস্থার কোনো গুরুত্বই দেননি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই আমার কাছে প্রযোজকের ফোন আসে। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিই, ডাক্তার আমাকে ধুলো-বালিতে শুটিং করতে মানা করেছেন।
ওখান থেকে আমাকে জোর করে প্রেশার দিয়ে বলা হয়, কোনো ধুলো-বালি নেই, শুটিং শেষ করতেই হবে। পরের দিন আমি প্রযোজকের কথা শুনে শুটিং স্পটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি চার গুণ বেশি ধুলো, পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তারপরও জোর করে আমাকে কাজ করতে হয়। সন্ধ্যাবেলা চন্দননগরের প্রচন্ড বৃষ্টিতে উত্তাল গঙ্গার পাড়ে আমাকে শট দিতে বলা হয়। তারপর আমার ধৈর্য ভেঙে যায়, আমি শুটিং স্পট ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হই। তারপর থেকেই আমাকে হুমকি, গালিগালাজ দেওয়া হচ্ছে, গায়ে হাত পর্যন্ত তোলা হয়েছে। রাহুলের মতো পরিস্থিতি আমারও হতে পারত।”

আর্টিস্ট ফোরামকেও তুলোধোনা:
” আর্টিস্ট ফোরামকে জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি। যখন আমি ব্ল্যাক আউট হয়েছিলাম, তখন আর্টিস্ট ফোরামের সেক্রেটারি কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপরেও চার গুণ খারাপ পরিস্থিতিতে আমাদের শুটিং করতে হয়, তখন আর্টিস্ট ফোরাম এসব দেখে না। আমি অভিনয় ছেড়ে দেব। কী করবে? আমাকে ব্যান করবে? করুক, ব্যান হতে আমি রাজি। তবে এর শেষ দেখে আমি ছাড়ব।”
বোঝাই যাচ্ছে, রাহুলের মৃত্যুর পর কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
