Election Commission controversy
Bengal Liberty, Kolkata :
ভোটের আগে দিল্লির নির্বাচন সদনে তীব্র সংঘাত, তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি অবস্থান নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল Election Commission controversy। ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অপমানিত হওয়ার দাবি তুললেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। যদিও কমিশনের বক্তব্য সম্পূর্ণ উল্টো তাদের দাবি, বৈঠক হয়েছে, কিন্তু তৃণমূল প্রতিনিধিদের আচরণই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

কী ঘটেছে? Election Commission controversy
বুধবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে পৌঁছায়। দলে ছিলেন ডেরেক ও ব্রায়েন , সাগরিকা ঘোষ এবং মেনকা গুরুস্বামী। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে আলোচনা করা। তৃণমূলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ইস্যুতেই বাদ পড়া ভোটারদের অধিকার ফেরানোর দাবি জানাতে কমিশনের দ্বারস্থ হয় শাসকদল।

বৈঠক শুরু, তারপরই উত্তেজনা
তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ডেরেক ও ব্রায়েনের অভিযোগ, মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁদের “Get Lost” বলে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং চারজন সাংসদকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি নির্বাচন কমিশন, না অন্য কিছু?” এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাধিক চিঠি পাঠালেও কমিশন তার কোনও প্রাপ্তি স্বীকার করেনি। তিনি বলেন “তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ন’টা চিঠি লিখলেও কেন একটা চিঠিরও প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়নি বলে প্রশ্ন তুলেছেন ডেরেক। তিনি আরও বলেন, “আমি কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করছি। আজ যা হয়েছে, তার ভিডিয়ো প্রকাশ করুন। আমি ২২ বছর রাজনীতি করছি, ১৬ বছর সাংসদ আছি, কিন্তু আজ যে অভিজ্ঞতা হল, সেটা এক কথায় লজ্জার।
কমিশনের বক্তব্য ‘শিষ্টাচার মানার অনুরোধ’
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এবং তৃণমূল প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে যে নির্বাচন হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত। তবে বৈঠকের সময় নাকি ডেরেক ও ব্রায়েনের উচ্চস্বরে ও আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য তাঁকে সতর্ক করা হয়। তাঁকে অনুরোধ করা হয় যেন তিনি শালীন ভাষায় এবং শান্তভাবে নিজের বক্তব্য রাখেন। এমনকি অভিযোগ, ডেরেক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কথা বলার সুযোগই দেননি বলে জানা যাচ্ছে।
‘নাটক’ না বাস্তব সমস্যা? উঠছে প্রশ্ন
সমালোচকদের মতে, ডেরেকের এই আচরণ পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। বৈঠকে উত্তেজনা তৈরি করে বাইরে এসে বড় অভিযোগ তোলা একে অনেকেই ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলেই দেখছেন। বিশেষ করে ভোটের আগে এমন বিতর্ক তৈরি করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
কোনটা সত্যি?
পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন আসলেই কি তৃণমূলের বক্তব্য শোনা হয়নি, নাকি বৈঠকের ভিতরে উত্তেজনাপূর্ণ আচরণের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়? সমালোচকদের মতে, ডেরেক ও ব্রায়েনের (Derek O’Brien) আচরণই এই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। একদিকে তিনি অপমানের অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে কমিশন তাঁর আচরণকেই দায়ী করছে। এখন প্রশ্ন এটি কি সত্যিই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সমস্যা, না কি রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন ইস্যু তৈরির কৌশল?

