Pabitra Kar
Bengal Liberty, Kolkata:
বাংলার রাজনীতির ভরকেন্দ্র যদি নন্দীগ্রাম হয়, তবে সেই কেন্দ্রকে ঘিরে লড়াই এবার ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনে এক ভিন্ন মাত্রা পেতে চলেছে Pabitra Kar Nandigram election। সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন পবিত্র কর। কিন্তু এই যোগদানের বিশেষত্ব কেবল দলবদল নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক অতীত এবং পরবর্তী পদক্ষেপের সমীকরণ।

ছায়াসঙ্গী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী Pabitra Kar Nandigram election
পবিত্র কর একসময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘকাল শুভেন্দুর প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই—এই প্রবাদকে সত্যি করে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে নাম লেখান।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, পবিত্র করই সম্ভবত প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি বিজেপির সদস্যপদ থাকা অবস্থাতেই সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিলেন এবং যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের তরফে তাঁকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

কোনোরকম ভাবে ‘সাইডলাইন’ হলেন প্রতীকুর?
পবিত্র করের আকস্মিক এই উত্থানে সবচেয়ে বেশি দৃPabitra Kar Nandigram electionষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রতীকুর রহমান। সদ্য বাম শিবির ছেড়ে আসা তরুণ এই নেতাকে নিয়ে যখন রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে ছিল, ঠিক তখনই পবিত্র করের অন্তর্ভুক্তি তাঁকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতীকুরকে ‘সাইডলাইন’ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠন এবং সমর্থকদের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
শুভেন্দু অধিকারীর পালটা বক্তব্য: “বাতিল হবে নমিনেশন”
পবিত্র করের প্রার্থী পদ নিয়ে মুখ খুলতে দেরি করেননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন, “পবিত্র করের নমিনেশন পদ বাতিল হতে পারে।” শুভেন্দুর এই দাবির পেছনে আইনি জটিলতার ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনি জটিলতা
যেহেতু পবিত্র কর বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ না করেই বা প্রযুক্তিগতভাবে কোনো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই অন্য দলে প্রার্থী হয়েছেন, তাই তাঁর হলফনামা বা মনোনয়ন পত্রে ত্রুটি থাকতে পারে বলে বিজেপি শিবির থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
মানসিক চাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং এককালের অনুগামীকে মানসিকভাবে চাপে ফেলার একটি কৌশলী চাল।
পবিত্র করের প্রার্থী হওয়া তৃণমূলের জন্য যেমন একটি বড় চাল, তেমনি এটি একটি রাজনৈতিক বড় ঝুঁকি। যদি আইনি মারপ্যাঁচে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়, তবে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের রণকৌশল মুখ থুবড়ে পড়বে। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর জন্য এটি সম্মানের লড়াই। তিনি কি তাঁর প্রাক্তন সঙ্গীকে রাজনৈতিকভাবে ধুলিস্যাৎ করতে পারবেন, নাকি পবিত্র কর তাঁর প্রাক্তন নেতার সাম্রাজ্যে ফাটল ধরাবেন—তার উত্তর পাওয়া যাবে ৪ঠা মে।
নন্দীগ্রামের লড়াই আর কেবল ‘ঘাসফুল বনাম পদ্মফুল’ নেই; এটি এখন ব্যক্তিগত আনুগত্য তা পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠছে।

