tcs controversy
Bengal liberty desk, ১৮ এপ্রিল :
দেশের অন্যতম বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা TCS-এর নাসিক শাখা এখন এক ভয়াবহ বিতর্কের কেন্দ্রে tcs controversy। অফিসের ভেতরেই মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা, মানসিক অত্যাচার এবং জোর করে ধর্মান্তর করার মতো মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সংস্থার সাতজন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নাসিকের ওই বিপিও ইউনিটটি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।

ভয়াবহ সেই অভিযোগ: tcs controversy
ঘটনার সূত্রপাত এক তরুণী কর্মীর সাহসিকতায়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে অশালীন প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অফিসের ভেতরে একটি ‘ধর্মান্তর সিন্ডিকেট’ চালানোর অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হিন্দু কর্মীদের ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো এবং তাঁদের বিশেষ একটি ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে চাপ দেওয়া হতো। এমনকি এক পুরুষ কর্মীকেও জোর করে নামাজ পড়ানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।

ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা?
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো অফিসের এইচআর (HR) বিভাগের ভূমিকা। নির্যাতিতা কর্মীদের দাবি, তাঁরা যখন অভিযোগ জানাতে যেতেন, তখন তাঁদের বলা হতো— “এসব তো হতেই থাকে, মুখ বন্ধ রাখো।” পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মী মিলে অফিসের ভেতরে একটি নিজস্ব ‘গ্যাং’ তৈরি করেছিল। প্রমাণের অভাব রাখার জন্য অফিসের ভেতরে মোবাইল নিয়ে ঢোকাও নিষিদ্ধ ছিল।
তদন্তে প্রশাসন ও টিসিএস:
এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও যন্ত্রণাদায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযুক্ত কর্মীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাসিক পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তৈরি করেছে। এই ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশনও নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে।
ষড়যন্ত্রের পাল্টা দাবি:
অন্যদিকে, মূল অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি এটি একটি ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। আপাতত ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। টিসিএস-এর মতো সংস্থায় যেখানে লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী কাজ করার স্বপ্ন দেখে, সেখানে এই ধরণের ঘটনা কর্পোরেট সংস্কৃতি ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
