Bayron Biswas
Bengal Liberty, ২৫ এপ্রিল :
আবার বায়রন! “সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হেরে যাব”- ফলাফল ঘোষণার আগেই ভবিষ্যতবাণী করলেন খোদ সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস (Bayron Biswas)। গত বৃহস্পতিবার বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে ঝামেলার ইতি এখনই টানছেন না কোনো দল। এবার ফোকাসে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর। সদ্য দলবদলু তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস জেতার আগেই হার শিকার করে নিলেন। আবার কিছুদিন আগেই তাঁর প্রাক্তন দল কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে “গুরুদেব” বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। তাহলে কি পুনরায় পুরোনো দলে ফিরে যাওয়ার পিচ সাজাচ্ছেন বায়রন (Bayron Biswas)?

কী ভবিষ্যতবাণী করলেন বায়রন? (Bayron Biswas)
আজ, শনিবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে তৈরি ইভিএম স্ট্রংরুমের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ ও হাঙ্গামার অভিযোগ উঠল সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি সেখানে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন এবং মৌখিক আক্রমণ করেন। ওই স্ট্রংরুমেই ফারাক্কা, শামশেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর ও সাগরদিঘি-এই ৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। বায়রন বিশ্বাস দাবি করেছেন, সাগরদিঘি-সহ জঙ্গিপুর মহকুমার একাধিক কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীরা পরাজিত হবেন। পাশাপাশি জঙ্গিপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক জাকির হোসেন, ফরাক্কার তৃণমূল প্রার্থী আমিরুল ইসলাম এবং সামশেরগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নুর আলমও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাবেন বলে দাবি করেন তিনি।

হঠাৎ হেরে যাওয়ার ভয়ের কারণ (Bayron Biswas)
তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের দাবি, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দেখেন, ভিতরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বাইরে পর্যবেক্ষণের জন্য কোনও স্ক্রিন নেই। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মনিটরিং স্ক্রিন বসানো হয়। তবে তাঁর অভিযোগ, এরপর রাত ১২টা ও ১টার দিকে দফায় দফায় সিসিটিভি ক্যামেরা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ ফের স্ট্রংরুমে গিয়ে ভেতরে ঢোকার অনুমতি চান বায়রন। কিন্তু নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। অভিযোগ, এরপর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ ও বিক্ষোভ দেখানো হয়। কিছুক্ষণ উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সেখান থেকে ফিরে যান বায়রন বিশ্বাস।

বায়রন বিশ্বাসের রাজনৈতিক পালাবদল (Bayron Biswas)
২৩ সালের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে তৃণমূলকে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন বায়রন। তবে জয়ের একদম পরপরই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এবার সেই একই কেন্দ্র থেকে বায়রনকে প্রার্থী করেছে ঘাসফুল শিবির। তারই মধ্যে প্রথম দফার নির্বাচনের ৫ দিন আগে প্রাক্তন দলের নেতাকে নিয়ে ভুয়সী প্রশংসা শোনা যায় বায়রনের গলায়। তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি স্বার্থপর। বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। করিনি বলব না। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম। আমার হাতেখড়ি অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই। ওঁকে আমি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত স্মরণ করব। সারাজীবন মনে রাখব। উনি আমার গুরুদেব।”

সব মিলিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে এটায় দাঁড়ায় উপনির্বাচনে সিংহাসন জেতার সাথে সাথেই দল পরিবর্তন করে রাজ্যের শাসক দলে নাম লেখান বায়রন বিশ্বাস। তারপর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলের থেকে গ্রিন কার্ড পেয়ে সেই একই বিধানসভা কেন্দ্র সাগরদিঘী থেকে ভোট দাঁড়ালেন তিনি। প্রথম দফার নির্বাচনের প্রায় ৫ দিন আগে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ” গুরুদেব” সম্বোধন করে ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে বায়রন। এবার EVM কারচুপির অভিযোগে তুলে প্রকাশ্যে হেরে যাওয়ার বাণী শোনালেন তিনি। যদি সবটাই একে একে দুই করা যায় তাহলে প্রশ্ন উঠছে ফের কি দল বদলাতে চায়ছেন দলবদলু বিদায়ী বিধায়ক ? নাকি হেরে যাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে রাস্তা পরিষ্কার রাখতে চায়ছেন বিদায়ী বিধায়ক? উত্তর দেবে ৪ তারিখের ফলাফল।
