Mitali Bag
Bengal Liberty, ২৭ এপ্রিল:
রাজনৈতিক ফয়দা লুটতে আর কত নিচে নামবে রাজ্যের শাসক দল (Mitali Bag)? হুগলির গোঘাটে তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের ‘আক্রান্ত’ হওয়ার গালভরা অভিযোগ অন্তত সেই প্রশ্নই তুলে দিচ্ছে। একদিকে যখন বিজেপি প্রার্থীর প্রচার মিছিলে লাঠি-বন্দুক নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালাচ্ছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা, ঠিক তখনই সেই নজর ঘোরাতে ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করলেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ। সমাজমাধ্যমে কেঁদে কেটে লাইভ করে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুললেও, ঘটনার ভিডিও কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। ভিডিওতে স্পষ্ট, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও খোদ সাংসদ নিজেই চরম উস্কানিমূলক কার্যকলাপ করেছেন। যদিও হুগলীর জেলাশাসকও সম্পূর্ন ঘটনাকে প্রাথমিক ভাবে ‘ দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল’ বলেই উল্লেখ করেছেন। ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছে কমিশন (Mitali Bag)।

ঘটনার ব্যাখ্যা (Mitali Bag)
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করে আরামবাগ লোকসভার সাংসদ। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার পরই সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। মিতালি বাগ জানান, গোঘাট এলাকায় বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। তিনি আরও জানান, গাড়ির কাচ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে, এমনকি তাঁর শরীরেও কাচের টুকরো লাগে। অভিযোগ অনুযায়ী, যেখানে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের কার্যালয় রয়েছে, সেই জায়গার কাছেই তাঁদের গাড়ি আটকে লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
তবে ঘটনার ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে চালকের পাশের আসনে বসা মিতালি বাগকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি বারংবার হাত দেখাতে থাকেন উত্তপ্ত দুষ্কৃতীদের দিকে। এখানেই শেষ নয় ভিডিওতে তাঁকে স্পষ্ট বলতে শোনা যায় “বেরিও না তাড়াতাড়ি ! মারুন না মারুন মারুন…….”। তারপরই দুষ্কৃতীদের লাঠির আঘাত এসে পরে গাড়ির সামনের কাঁচে। পরক্ষণে তিনি ফেসবুক লাইভ করে বলেন, ” আমার সারা গায়ে কাঁচ”। এখানেই প্রশ্ন, তিনি বারংবার মারতে বলছেন কেন? পুরোটাই কি নাটকের প্লট সাজানোর চেষ্টা ?

বিজেপির অভিযোগ (Mitali Bag)
অন্যদিকে, এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি তোলা হয়েছে, ঘটনাটির পিছনে আসলে তৃণমূলেরই ভূমিকা রয়েছে। আরামবাগের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা পুরশুড়ার প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, “আমাদের প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের সমর্থনে এলাকায় প্রচার চলছিল। সেই সময় তৃণমূল নেতা সঞ্জয় খানের নেতৃত্বে কিছু দুষ্কৃতী লাঠি, ইট, রড এমনকি বন্দুক নিয়ে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায়।” তিনি আরও দাবি করেন, “এই ঘটনায় প্রায় ২০ জন কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মোট ৫০ জন আহত হয়েছেন। বিজেপি প্রার্থীর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।” মিতালির অভিযোগ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “ঘটনাটা চাপা দেওয়ার জন্যই এই নাটক করা হচ্ছে।”

জেলাশাসকের রিপোর্ট (Mitali Bag)
ইতিমধ্যেই হুগলির ডিএম রিপোর্ট পেশ করেছে। ডিএম রিপোর্ট অনুযায়ী সম্পূর্ন ঘটনাকে “দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল” বলেই জানিয়েছেন জেলাশাসক। পাশাপশি কারা এই হামলা চালিয়েছে তা জানার জন্য পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে বলেও জানানো হয়েছে। ঘটনার পূর্ণ তদন্তে তৎপর পুলিশ, এমনটাই নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো এলাকায় পুলিশ এবং সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে। তার সাথেই নির্বাচন কমিশনও তৎপরতার সাথে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে।
Khokon Das: প্রথম দফার পরও অশান্তি, বিজেপি প্রার্থীর উপর হামলার অভিযোগhttps://t.co/NJNRRdwxhU বিস্তারিত পড়ুন লিংকে ক্লিক করে@SuvenduWB @BJP4Bengal @bengalliberty1 @MamataOfficial @AITCofficial #WestBengalLegislativeAssemblyelection2026 #khokondas #westbengalpolitics pic.twitter.com/2iSfgNQYM5
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 26, 2026
তবে জেলাশাসকের রিপোর্ট এবং বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, বিজেপির শান্তিপূর্ণ প্রচারে তৃণমূলের সশস্ত্র হামলাকে ধামাচাপা দিতেই পরিকল্পিতভাবে প্ররোচনা জুগিয়ে এই ‘আক্রান্ত হওয়ার চিত্রনাট্য’ তৈরি করেছেন মিতালি বাগ? সবটাই জানা যাবে সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসলে।
