death controversy
Bengal liberty desk, 1 মে :
২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর (death controversy)। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হলেও, নির্বাচন কমিশন সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে জানিয়ে দিল – এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

অভিযোগ বনাম পাল্টা দাবি death controversy
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৫ নম্বর বুথে ৮১ বছর বয়সী পূর্ণচন্দ্র দোলুই তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে যান। ভোট দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনা ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা ওই বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলেকে ধাক্কা মেরেছেন এবং হেনস্থা করেছেন। সেই আঘাতেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এমনকি জওয়ানদের ‘জল্লাদ’ বলে আক্রমণ করে একে ২০২১ সালের ‘শীতলকুচি’র ঘটনার সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি। মৃত বৃদ্ধের পরিবারও একই অভিযোগ তুলেছিল।

সত্য সামনে আনল সিসিটিভি ফুটেজ:
শুক্রবার এই ঘটনার জল ঘোলা হতেই মুখ খোলে নির্বাচন কমিশন। বুথের ভিতরের সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) প্রকাশ করে কমিশন দেখিয়েছে, বৃদ্ধ ভোটার তাঁর ছেলের সাহায্য নিয়েই বুথে ঢুকেছিলেন। হাতে কালি লাগানোর পর তিনি একাই লাঠিতে ভর দিয়ে ইভিএম-এর দিকে এগিয়ে যান। ভোট দেওয়ার পর সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তিনি হঠাৎই অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। ফুটেজে কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ধাক্কা মারতে বা খারাপ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।
কমিশনের কড়া বার্তা:
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টটি ছিল ‘মিসইনফরমেশন’ বা ভুল তথ্য। বৃদ্ধ ব্যক্তি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং প্রবল গরমের কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসকদের মতেও এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হলেও এর পিছনে কোনো শারীরিক আঘাতের চিহ্ন নেই।
নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাহিনীর মনোবল ভাঙা উচিত নয়। বৃদ্ধের মৃত্যুকে নিয়ে এই ধরণের রাজনীতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
বর্তমান পরিস্থিতি:
যদিও তৃণমূল তাদের অভিযোগে অনড়, তবুও কমিশনের প্রকাশিত ফুটেজ জনসমক্ষে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আমতা থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করছে, তাই তাদের বিরুদ্ধে তথ্যহীন অভিযোগ গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।
