Bengal Liberty, ৫ মে:
বাংলায় তৃণমূলের অপশাসনের অবসান ঘটানোর অন্যতম প্রধান কারিগর বিজেপি নেতা সুনীল বনসলকে রাজনীতির নতুন চাণক্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটপর্বে রাজ্যে পড়ে থেকে দলকে অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিয়েছেন। এবার সরকার গড়ার কৌশল ঠিক করতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন তিনি। Upcoming CM

আজ দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। মঙ্গলবার সকালে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের ভোট পর্যবেক্ষক সুনিল বনসল এদিন সকালে সটান হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পড়ায় কালীঘাট মন্দিরে। রাসবিহারী কেন্দ্রের বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তকে সাথে নিয়ে পুজো দেন। এরপরই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
দলীয় সূত্রে খবর, সরকার গঠনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতেই তাঁর এই দিল্লি সফর। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে নতুন মন্ত্রিসভা, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দিল্লিতে গিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি নিতীন নবীন-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। নির্বাচনী লড়াইয়ে দীর্ঘদিন রাজ্যে থেকে সংগঠন মজবুত করা থেকে শুরু করে বুথ স্তরে কৌশল সাজানো—সব ক্ষেত্রেই বনসলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিগেড ময়াদনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা
সোমবার ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা শেষে পরিষ্কার হয়েছে, দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এদিকে, বিজেপির অন্দরমহলে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনা অনেকটাই স্পষ্ট। সূত্রের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী হতে চলেছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্রে খবর, খুব শিগগিরই বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক ডাকা হবে। সেই বৈঠকেই বিধায়ক দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হতে পারে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়েও ইতিমধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের ইঙ্গিত, আগামী ৯ তারিখ ব্রিগেড ময়দানে হতে পারে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হতে পারে। প্রথম দফায় মুখ্যমন্ত্রী সহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন, পরে পূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পর এখন নজর দিল্লির বৈঠকে। দিল্লিতে সুনীল বনশলের দিল্লিতে বৈঠকের পরই রাজ্যের নতুন সরকারের রূপরেখা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
