Swasthya Sathi Card
Bengal liberty, 8 মে:
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আর নতুন সরকার গঠনের ঠিক আগের মুহূর্তে চরম সংকটে স্বাস্থ্য পরিষেবা। অভিযোগ উঠছে, রাত পোহালেই বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনায় কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড (Swasthya Sathi Card) নিতে অস্বীকার করছে। এই অনিশ্চয়তার জেরে ক্যানসার আক্রান্ত থেকে শুরু করে হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের চিকিৎসা থমকে যাওয়ার জোগাড় (Swasthya Sathi Card)।

ভোগান্তির কবলে সাধারণ মানুষ (Swasthya Sathi Card)
শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোমে দেখা গেছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকার বদলে গেলে স্বাস্থ্যসাথীর বকেয়া টাকা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তারা ধন্দে রয়েছে। ফলে, ক্যানসার রোগীদের জরুরি কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হৃদরোগীদের অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা পেসমেকার বসানোর মতো জরুরি অস্ত্রোপচার স্থগিত রাখা হচ্ছে। যারা নিয়মিত ডায়ালিসিস করান, তাঁদেরও ফিরে যেতে হচ্ছে।
মুখ্যসচিবের কাছে চিকিৎসকদের আরজি (Swasthya Sathi Card)
এই পরিস্থিতিতে রোগীদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’। শুক্রবার সংগঠনের পক্ষ থেকে নবান্নে মুখ্যসচিবকে একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, “প্রশাসন বদলালেও রোগ বা চিকিৎসা অপেক্ষা করে না।” তাঁদের আবেদন, অবিলম্বে নির্দেশিকা জারি করে বলা হোক যে, নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিতে অস্বীকার করতে পারবে না। জীবনদায়ী চিকিৎসা কোনোভাবেই যেন প্রশাসনিক কারণে বন্ধ না হয়।স্বাস্থ্যসাথী থাকবে নাকি তার বদলে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ আসবে, সেই নিয়ে দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হোক।

কী বলছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? (Swasthya Sathi Card)
অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালের বক্তব্য, আগের সরকারের এই বড় প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। নতুন সরকার এই প্রকল্পের ভার নেবে কি না বা নীতি কী হবে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কার্ড নেওয়া তাঁদের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতির ময়দানে সরকার বদল হলেও সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অধিকার যেন কেড়ে নেওয়া না হয়—এটাই এখন মুমূর্ষু রোগীদের পরিবারের আর্জি। কালকের শপথ গ্রহণের পর নতুন সরকার এই নিয়ে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
