West Bengal BJP
Bengal Liberty, ১০ মে :
রাজনীতিতে শেষ হাসি কে হাসবে, তা আগে থেকে আঁচ করা কঠিন। যে রাজনৈতিক স্লোগানকে ঘিরে একসময় বিরোধীদের উপহাসের অন্ত ছিল না, আজ সেই স্লোগানই বাংলার বুকে এক অমোঘ বাস্তব (West Bengal BJP)। “ইস বার দুশো পার”-অমিত শাহের এই হুঙ্কারকে একটা সময় নিছক রাজনৈতিক দেমাক বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু ২০২৬-এর মে মাসে, সেই সমস্ত কটাক্ষের কড়া জবাব দিল ইভিএম। বেঙ্গালুরুর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই পুরোনো আত্মবিশ্বাসের সুরেই বলেন, “১০ বছর আগে ৩ ছিলাম, আজ ২০০ পার!” ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বাংলায় ক্ষমতা দখল করে বিজেপি (West Bengal BJP) প্রমাণ করে দিল, রাজনীতিতে আত্মবিশ্বাস আর অটল লক্ষ্য থাকলে কোনও দুর্গই অভেদ্য নয়।

মহুয়ার কটাক্ষের জবাব (West Bengal BJP)
নির্বাচন ঘোষণার পর, কিন্তু ভোটগ্রহণের ঠিক আগে তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। ২০২১ সালে ‘দুশো পার’-এর ডাক দিয়ে গোহারা হারার পরেও, ২০২৬-এ কেন নিজেদের স্লোগান বদলায়নি বিজেপি? তিনি বলেছিলেন, ইস বার দোশো পার বলেও যখন তিনি আসতে পারলেন না । তাহলে তিনি স্লোগানটা বদলালেন না কেন? রাজনীতিতে স্লোগান পরিবর্তন করা সবসময় জরুরি নয়, যদি নিজের রণকৌশল ও বাস্তব তথ্যের ওপর বিশ্বাস থাকে, সেটাই প্রমাণ করে দিলেন অমিত শাহ। নিজের স্লোগানের ওপর আস্থা রেখে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সত্য যখন পক্ষে থাকে, তখন উপহাসে কান দিতে নেই। বিরোধীদের যাবতীয় কটাক্ষকে ধুলোয় মিশিয়ে আজ সেই ‘দুশো পার’-এর লক্ষ্যমাত্রাই সগৌরবে ছুঁয়ে ফেলেছে দল।

সুপ্তাবস্থা থেকে টিকে থাকার লড়াই (West Bengal BJP)
বাংলার বুকে বিজেপির এই সুবিশাল সাম্রাজ্য কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। একটা সময় ছিল, যখন এ রাজ্যে বিজেপি কার্যত সুপ্ত অবস্থায় ছিল। শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষদের মতো নেতারা যখন দলের হাল ধরেছিলেন, তখন সংগঠন ছিল নিতান্তই দুর্বল। প্রতিকূল পরিবেশে তাঁরাই দলের ভিতটুকু কোনোক্রমে টিকিয়ে রেখেছিলেন। শাসকদলের আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করার মতো সাংগঠনিক শক্তি সেসময় সেভাবে দানা বাঁধতে পারেনি। দীর্ঘকাল ধরে এই সুপ্ত অবস্থাতেই বাংলার বুকে অস্তিত্ব বজায় রেখেছিল পদ্ম-শিবির।

টার্নিং পয়েন্ট শুভেন্দু (West Bengal BJP)
বঙ্গ বিজেপির সমীকরণে সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে। তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছেড়ে তিনি যেদিন বিজেপিতে যোগ দিলেন, সেদিন থেকেই দলের পালে নতুন হাওয়া লাগতে শুরু করে। একটি সুপ্ত অঙ্কুর থেকে আস্ত বিরোধী দলে রূপান্তরিত হয় বিজেপি। শাসকদলের প্রধান আতঙ্ক হয়ে ওঠেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দল হিসেবে বিজেপির সেই আগ্রাসী লড়াই, রাস্তায় নেমে জনমত গঠন এই সবকিছুই দলকে আজকের এই ঐতিহাসিক জয়ে পৌঁছে দিয়েছে। দিলীপ-শমীকদের তৈরি করা জমিতে শুভেন্দু অধিকারীর মতো দাপুটে নেতার নিরলস লড়াই, সব মিলিয়ে এক সুপ্ত রাজনৈতিক শক্তি আজ আস্ত এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। ‘দুশো পার’ আজ আর কোনো ফাঁকা বুলি বা বিরোধীদের উপহাসের বিষয় নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অবিশ্বাস্য পালাবদলের দলিল। একসময়ের ব্রাত্য ও কোণঠাসা দল আজ রাজ্যের শাসক, আর উপহাসকারীরা আজ দর্শক। শূন্য থেকে শুরু করে ২০০ পার করার এই দীর্ঘ যাত্রা বাংলার রাজনীতির রোজনামচায় লেখা এক পটপরিবর্তন!
