Nandigram Assembly
Bengal Liberty, ১৫ মে :
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং বৃহত্তর প্রশাসনিক দায়িত্ব, এই দুইয়ের মেলবন্ধনে অবশেষে নিজের বহু লড়াইয়ের স্মৃতিবিজড়িত নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Nandigram Assembly)। শুক্রবার বিধানসভায় নবনিযুক্ত স্পিকারের কক্ষে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দেন তিনি। একাধারে আবেগঘন কণ্ঠ এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক দৃঢ়তা, ইস্তফাপর্বের এই জোড়া মেজাজেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি তাঁর চিরস্থায়ী ‘আত্মিক সম্পর্ক’-এর প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রতিহিংসার তীব্র অভিযোগ- সব মিলিয়ে শুক্রবারের বিধানসভা সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক মুহূর্তের (Nandigram Assembly)।

আবেগপ্রবণ মুখ্যমন্ত্রী, ‘সম্পর্কটা রাজনৈতিক নয়, আত্মিক’! (Nandigram Assembly)
সংবিধানের নিয়ম মেনে নন্দীগ্রামের আসন ছাড়তে হলেও, এদিন স্পিকারের হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেওয়ার পর দৃশ্যতই ভারাক্রান্ত দেখাচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে নন্দীগ্রামবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, বিধায়ক পদ ছাড়লেও তিনি তাঁদের পাশ থেকে একচুলও সরছেন না। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ইচ্ছে না থাকলেও সংবিধান এবং নিয়ম মেনে আমাকে নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়তে হচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বা আপনাদের বন্ধু শুভেন্দুকে আপনারা সব সময়, সব জায়গায় পাবেন।” ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে ফিরোজা বিবির জয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি মনে করিয়ে দেন যে নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিছকই রাজনৈতিক নয়, বরং তা সম্পূর্ণ আত্মিক; যা আমৃত্যু অটুট থাকবে। ৭ জানুয়ারি ভাঙাবেড়া, ১৪ মার্চ সোনাচূড়া এবং ১০ নভেম্বরের রক্তাক্ত সূর্যোদয়ের বর্ষপূর্তির মতো ঐতিহাসিক দিনগুলিতে তিনি আগের মতোই উপস্থিত থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এখন তাঁর কাঁধে গোটা রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের গুরুদায়িত্ব, তাই বৃহত্তর স্বার্থে নন্দীগ্রামের মানুষকে বিচলিত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ (Nandigram Assembly)
আবেগের পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রীর গলায় শোনা যায় কড়া রাজনৈতিক সুরও। বিধায়ক পদ ছাড়ার দিনই নন্দীগ্রামে তাঁর স্বপ্নের জলপ্রকল্পের কাজ নতুন করে শুরু হওয়া প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে হেরে যাওয়ার পর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে জলের পাইপ পাততে দেননি। আমি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ADB) থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা এনেছিলাম নন্দীগ্রামের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য।” তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুক্রবার সকাল থেকেই সেই থমকে থাকা কাজ ফের পূর্ণোদ্যমে শুরু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এই উন্নয়নমূলক কাজে আর কোনও ত্রুটি বা ঘাটতি থাকবে না এবং মানুষ অচিরেই বুঝবেন যে “লোকটার কথার দাম আছে।”
