Bengal Liberty, ১৬ মে :
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান ঘিরে ক্রমেই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ (TMC Leader arrested)। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশেরাম দাসের দাদা তথা ক্যানিং ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উত্তম দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিঠাখালি এলাকায় তাঁর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। খুনের চেষ্টা থেকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। তার গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন প্রশাসনের কড়া অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দিতেই এই অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ (TMC Leader arrested)।

গভীর রাতে পুলিশের হানা (TMC Leader arrested)
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ক্যানিং থানার পুলিশ মিঠাখালি এলাকায় উত্তম দাসের বাড়িতে অভিযান চালায়। গোটা এলাকা ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারপর সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তৃণমূলের ‘দাপুটে নেতা’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন উত্তম দাস। তাঁর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ছড়ানো, বিরোধীদের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল পুলিশের কাছে।
পুলিশের দাবি, গত ৪ মে বিজেপির একটি মিছিলে গুলি চলার ঘটনায় এক বিজেপি কর্মী আহত হন। সেই ঘটনায় মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তম দাসের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও এলাকায় অশান্তি ছড়ানো এবং রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের চাপে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি উত্তম দাস বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
আরও খবর

গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের সঙ্গে বচসা বিধায়কের (TMC Leader arrested)
জানা গেছে, উত্তম দাসকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁর ভাই তথা ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এই গ্রেপ্তারির পর ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, এতদিন প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে এই ঘটনায় চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। যদিও এখনও পর্যন্ত দলীয়ভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস।


