Netaji Subhas Chandra Bose Mystery
Bengal Liberty, সৈকত নিয়োগী, সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত এবং বিট্টু রায়চৌধুরী: আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক সম্মেলনে আমরা এমন এক সত্য সামনে নিয়ে এলাম, যা বছরের পর বছর ধরে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে (Netaji Subhas Chandra Bose Mystery)। তাইওয়ান সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত সরকারি ই-মেল রিপ্লাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে — ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ আজও তাদের কাছে নেই।

তাইওয়ানের বিস্ফোরক দাবি (Netaji Subhas Chandra Bose Mystery)
ইতিহাসকে মিথ্যার কুয়াশায় ঢেকে রাখার যে নির্লজ্জ প্রয়াস দশকের পর দশক ধরে চলেছে, আজ তার ভিত কেঁপে উঠেছে। ১৯৫৬ সালেই তাইওয়ান সরকার গোপন সাইফার টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভারত সরকারকে জানিয়েছিল — ১৮ আগস্ট ১৯৪৫-এর তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনার কোনও প্রমাণ তাদের হাতে নেই। অথচ সেই সত্যকে চাপা দিয়ে, দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করে, নেতাজীর “মৃত্যু রহস্য”কে পরিকল্পিতভাবে একটি রাজনৈতিক নাটকে পরিণত করা হয়েছে।
আমরা সম্প্রতি তাইওয়ান মিশনের অ্যাম্বাসেডর মিস্টার মমিন চেনের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সরকারি স্বীকৃত গবেষক ইয়েন জুঙ চ্যাঙের মতামতকে সমর্থন করে স্পষ্ট ভাষায় জানান—
“Taiwanese authorities do not appear to hold any official documents that conclusively confirm the death of Netaji.”
এবং আরও বলেন—
“There are currently no publicly stated plans by the Taiwan government to initiate a new investigation into Netaji’s fate.”
অর্থাৎ, যেই তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনার গল্প বছরের পর বছর ধরে জনগণের সামনে পরিবেশন করা হয়েছে, তার পক্ষে আজও কোনও অকাট্য সরকারি প্রমাণ নেই।
Netaji: বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাননি নেতাজি! Taiwan Report প্রকাশ্যে আনার দাবি | Bengal Liberty#netaji #SubhashChandraBose #NetajiSubhasChandraBose #Bose #BengalLiberty pic.twitter.com/bF5BYkgB7p
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) May 22, 2026
‘মৃত্যু নয়, অন্তর্ধান’—তাইওয়ানের ই-মেল ঘিরে নতুন বিতর্ক (Netaji Subhas Chandra Bose Mystery)
তবুও একদল স্বঘোষিত গবেষক, রাজনৈতিক সুবিধাবাদী এবং তথাকথিত “পরিবারতন্ত্রের উত্তরাধিকারীরা” বিদেশে বসে ভষ্ম, অস্থি আর মনগড়া গল্পের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবছর নতুন রাজনৈতিক পতাকার তলায় দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। নেতাজীকে ভুলিয়ে দেওয়ার এই সংগঠিত রাজনীতির বিরুদ্ধে আজ ইতিহাস নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছে।
তাইওয়ান সরকারের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সেই সমস্ত মিথ্যাচারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিল।

‘নেতাজী কোনও দলের নন, জাতির আত্মসম্মান’ (Netaji Subhas Chandra Bose Mystery)
আমরা আজ বাংলার মাটি থেকে, গণমাধ্যমের বন্ধুদের মাধ্যমে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এবং সমগ্র দেশের বিবেকের কাছে পাঁচটি ঐতিহাসিক দাবি তুলে ধরছি—
১. নেতাজী অন্তর্ধান রহস্যের সর্বশেষ তদন্ত কমিশন, জাস্টিস মনোজ মুখার্জী কমিশনের রিপোর্ট পুনরায় সংসদে আলোচনার জন্য অবিলম্বে কেন্দ্র সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হোক। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে মুখার্জী কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক।

২. বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ের অসংখ্য ইন্টেলিজেন্স নথি ধারাবাহিকভাবে ডিক্লাসিফায়েড হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ গবেষক কমিটি গঠন করে বিদেশি মহাফেজখানা থেকে নেতাজী সংক্রান্ত সমস্ত ডিক্লাসিফায়েড নথি সংগ্রহ করে একটি আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা হোক।
৩. নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনকে “দেশপ্রেম দিবস” হিসেবে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করতে হবে। যে মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য, তাঁকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে আটকে রাখা জাতির লজ্জা।
৪. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নেতাজীর ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শন ও জাতীয়তাবাদী আদর্শকে স্বতন্ত্র দার্শনিক মতবাদ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
৫. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নামে স্থায়ী “চেয়ার প্রফেসর” প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম বিকৃত ইতিহাস নয়, প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে।
আরো পড়ুন:- Sandip Ghosh: ৪৫ দিনের মধ্যে সন্দীপ ঘোষের বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশ
আজ সময় এসেছে — মিথ্যার রাজনীতি ভেঙে সত্যের দরজা খুলে দেওয়ার।
নেতাজী কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন। নেতাজী এই দেশের আত্মসম্মান, এই জাতির অগ্নিস্মৃতি। আর ইতিহাসের সেই অগ্নিশিখা আজ আবার জ্বলে উঠেছে।
