Legendary players last dance
Bengal Liberty, ২৩ মে: আর মাত্র উনিশ দিনের অপেক্ষা তার পরেই শুভ সূচনা হবে ২৩ তম ফিফা বিশ্বকাপ (Legendary players last dance)। ২০২৬ এর এই প্রথমবার তিনটি আয়োজক দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিলে বিশ্বকাপ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। এরই সঙ্গে ৩২ থেকে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাই ৪৮ গিয়ে পৌঁছেছে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই টান – টান রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতার জন্য অপেক্ষা করছে গোটা বিশ্ব। ১০৪টি মেগা ম্যাচেই ফয়সালা হয়ে যাবে কোন দেশের মাথায় সেরার শিরোপা। এমনকি এই নয়া মডেল সফল হলে ভবিষ্যতে ৬৪টি দেশকে নিয়েও ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন হতে পারে। কিন্তু সে পরের কথা এবারের বিশ্বকাপ বহু দিক থেকেই ঐতিহাসিক আয়োজক দেশ, ৪৮টি দল ছাড়াও এবারের বিশ্বকাপ বহু কিংবদন্তী খেলোয়াড়দের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে।

কোনো খেলোয়াড় ট্রফির স্বাদ আগেই গ্রহণ করেছেন কেউ আবার এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। লিওনেল মেসি থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো কিংবা ৪০ বছরের অপ্রত্যাশিত জার্মানির মানব প্রাচীর ম্যানুয়েল নয়ারের।সবাই নিজের শেষ বিশ্বকাপে ২০০ শতাংশ প্রচেষ্টা দিতে তৈরি আসুন দেখে নেওয়া যাক কোন কোন খেলোয়াড় নিজেদের শেষ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে নামছেন।

কিংবদন্তী খেলোয়াড় দের শেষ সুযোগ

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) (Legendary players last dance)
লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ২০২২সালে আর্জেন্টিনাকে বিজয়ী করা , যেখানে তিনি সাতটি গোল করেন এবং গোল্ডেন বল জেতেন। তিনি পাঁচটি টুর্নামেন্ট জুড়ে (২০০৬–২০২২) ২৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তিনি ১৩টি গোল করেছেন এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ২০২৬ সালে তিনি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপে মেসি গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে দুইবার গোল করেন। তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একটি টুর্নামেন্টের প্রতিটি নকআউট পর্বে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
সামগ্রিক রেকর্ড বলছে মেসি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে
সর্বাধিক ২১টি গোলে অবদান (গোল + অ্যাসিস্ট) রাখার রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছেন। এই বারের বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নামবেন মেসি দেখা যাক তাঁর পায়ের জাদুকে আটকাতে বিরোধী শিবির কতটা প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে নামে।

অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ( আর্জেন্টিনা ) (Legendary players last dance)
যখনি আর্জেন্টিনা শিবিরে সংকটের মুহূর্ত তৈরী হয় তখনই সংকট মোচনের ভূমিকায় আসেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। কোপা আমেরিকা হোক কিংবা বিশ্বকাপের ফাইনাল যখনি দল সমস্যায় পড়েছে তখনই উদ্ধার করতে এসেছেন বড় ম্যাচের খেলোয়াড় ডি মারিয়া।

ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ( পর্তুগাল ) (Legendary players last dance)
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পাঁচটি ফিফা বিশ্বকাপে (২০০৬–২০২২) খেলেছেন এবং ২২টি ম্যাচে ৮টি গোলকরেছেন । তিনিই একমাত্র পুরুষ খেলোয়াড় যিনি টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২) গোল করেছেন। তার সেরা পারফরম্যান্স ছিল ২০১৮ সালে, যেখানে তিনি স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ চারটি গোল করেন। এ বারের বিশ্বকাপে রোনাল্ডো শেষ চেষ্টা করবেন এমন ট্রফি জেতার যা তিনি কখনোই জেতেন নি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এই কাজটি অনেক আগেই করে ফেলেছেন বিশ্বের সমস্ত ট্রফি জিতে নয়া কৃতিমান স্থাপন করেছেন সিআরসেভেন পারবেন কি বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে সেটাই এখন দেখার।

লুকা মড্রিচ ( ক্রোয়েশিয়া ) (Legendary players last dance)
লুকা মড্রিচের খেলোয়াড় জীবন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যর থেকেও বেশি কঠিন ও শক্ত। ছোট থেকেই হাইটের সমস্যা তাঁর মধ্যে ফুটবল জীবনের প্রথমেই ব্যর্থতা ও সমালোচনা। কিন্তু সব কিছুকে কাটিয়ে আজ লুকা বিশ্বের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দের মধ্যে অন্যতম। তাঁর নেতৃতেই দলকে ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে (রানার্স-আপ) এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থানে নিয়ে যান । ৩৭ বছর বয়সেও অসাধারণ শারীরিক সক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি ২০১৮ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল এবং ২০২২ সালেব্রোঞ্জ বলজয় করেন । তাই শেষ লগ্নেও লুকার থেকে ভয়ঙ্কর আর কেউ হবে না সেটা প্রায় নিশ্চিত।

ম্যানুয়েল নয়ার ( জার্মানি ) (Legendary players last dance)
ফুটবল জগতের মানব প্রাচীর বলে কাউকে যদি চিনিতো করা হয় সে হচ্ছে কিংবদন্তী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে ব্যাপকভাবে গণ্য করা হয়, যিনি তার ‘সুইপার-কিপার’ খেলার শৈলী দিয়ে এই পজিশনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন এবং ২০১৪ সালেজার্মানিকে ফিফা বিশ্বকাপশিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে গোল্ডেন গ্লাভ সাত ম্যাচে মাত্র চারটি গোল হজম করে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে গোল্ডেন গ্লাভ পুরস্কার জিতে নেন তিনি। তাঁর আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে সেরা পারফরমেন্স সবাই কে চমকে দিয়েছিলো তাই এবারের বিশ্বকাপেও জার্মানির মানব প্রাচীর পুরোপুরি তৈরী।

নেইমার ( ব্রাজিল ) (Legendary players last dance)
ব্রাজিলের ওয়ান্ডার্কিড নামে পরিচিত নেইমার দা সিলভা তিনটি বিশ্বকাপে ( ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ) ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৩টি ম্যাচে ৮টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন। অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করলেও, তার টুর্নামেন্টগুলো চোটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙা (২০১৪) এবং গোড়ালির সমস্যা (২০২২)। ২০১৪ সালে তিনি চতুর্থ স্থান অর্জন করে সেরা ফল লাভ করেন। এই মুহূর্তে দলে জায়গা পেলেও চোট নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন নেইমার শেষ অবধি তাঁর চতুর্থ বারের বিশ্বকাপ খেলা হয় কি না সেটাই এখন দেখার।

কাসেমিরো ( ব্রাজিল ) (Legendary players last dance)
কাতার বিশ্বকাপে কাসেমিরো ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি মাঝমাঠের মূল স্তম্ভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত নৈপুণ্য ও জয়সূচক গোলের জন্য ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ সম্মাননা অর্জন করেন। ব্রাজিলের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায়ের আগে পর্যন্ত ,তিনি আগ্রাসন ও কৌশলগত শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন।

কেভিন ডি ব্রুইন ( বেলজিয়াম ) (Legendary players last dance)
কেভিন ডি ব্রুইন তিনটি ফিফা বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২) বেলজিয়ামের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যার মধ্যে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে দলটি তৃতীয় স্থানঅর্জন করে । অসাধারণ প্লে-মেকিংয়ের জন্য পরিচিত এই খেলোয়াড় ২০১৮ সালের কোয়ার্টার-ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন এবং ২০১৪ সালে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করেন, যদিও ২০২২ সালে বেলজিয়াম আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। দেখার বিষয় শেষ বিশ্বকাপে ব্রুইন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

অ্যালিসন বেকার ( ব্রাজিল ) (Legendary players last dance)
ব্রাজিলের আরেক সফল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন, যিনি তার শান্ত স্থিরতা, শক্তিশালী শট ঠেকানো এবং বল বিতরণের জন্য পরিচিত। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে তুলনামূলকভাবে কম শটের মুখোমুখি হলেও, তিনি নকআউট পর্বে, বিশেষ করে ২০২২ সালে, গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে টাই বেকারে হারের পর পারফরমেন্স মান অনেকটাই কমে গেছে তাই শেষ বিশ্বকাপে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বেকার পালন করে সেটাই এখন দেখার।

হ্যারি ক্যান ( ইংল্যান্ড ) (Legendary players last dance)
হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৮ সালে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জয় এবং ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ সালে অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত, তিনি ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ৮টি গোল করেছেন এবং গ্যারি লিনেকারের ইংল্যান্ডের হয়ে গড়া ১০ গোলের রেকর্ডটি ভাঙার লক্ষ্য নিয়েছেন।

সন হিউং-মিন ( দক্ষিণ কোরিয়া ) (Legendary players last dance)
সন হিউং-মিন তার চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছেন এবং তিনটি গোল করে তিনি এই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বকালের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতাহিসেবে অবস্থান করছেন । তার নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর জন্য পরিচিত, তিনি ২০২২ সালে কোরিয়াকে শেষ ষোলোতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং এর আগে ২০১৮ সালে জার্মানির বিরুদ্ধে জয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মোহাম্মদ সালাহর ( মিশর ) (Legendary players last dance)
বিশ্বকাপে মোহাম্মদ সালাহর প্রধান প্রভাব দেখা যায় ২০১৮ সালে, যেখানে তিনি কাঁধের চোট নিয়েও ২ ম্যাচে ২টি গোল করেন, যা ছিল সেই টুর্নামেন্টে মিশরের একমাত্র গোল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তিনি মিশরের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, যার লক্ষ্য দলকে তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে নিয়ে যাওয়া। ১৯৩৪ সালের পর বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে ওপেন প্লে থেকে এবং একাধিকবার গোল করা প্রথম মিশরীয় খেলোয়াড় হন।

ভার্জিল ফন ডাইক ( নেদারল্যান্ডস ) (Legendary players last dance)
ভার্জিল ফন ডাইক কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের অধিনায়কত্ব করেন এবং দলকে কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যান। একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও ডিফেন্ডার হিসেবে, তিনি একটি কঠিন টুর্নামেন্টে তার উচ্চমানের পারফরম্যান্স বজায় রেখেছিলেন, যার ফলস্বরূপ বিজয়ী আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয়ভাবে পেনাল্টি শুটআউটে তাদের বিদায় নিতে হয়, যেখানে তার নেওয়া স্পট-কিকটি প্রতিহত হয়েছিল।
গোটা ফুটবল বিশ্বের সমর্থকরা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য মুখিয়ে আছে। কে করবে বাজিমাত, কে হবে সেরার সেরা, আর্জেন্টিনা কি পারবে ব্রাজিলের মতো পর পর দু বার বিশ্বকাপ জিততে, নাকি হবে স্বপ্ন ভঙ্গ? এইসব প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই বিশ্বকাপের জ্বরে কাবু গোটা বিশ্ব।

