Corinthians Democracy
বিট্টু রায়চৌধুরী, Bengal Liberty
প্রথমেই বলে রাখা দরকার, ‘কোরিনথিয়ানস ডেমোক্রেসি’ (Corinthians Democracy) ব্রাজিলে মিলিটারি শাসনের বিরুদ্ধে একটি মতাদর্শগত লড়াই। এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল সওপাওলোর ফুটবল ক্লাব ‘স্পোর্টস ক্লাব কোরিনথিয়ানস পাওলিস্তা’র গর্ভ থেকে। জন্মদাতা ‘মিডফিল্ডার’ সক্রেটিস ব্রাসিলিয়েরো সাম্পাইও ডি’সুজা ভিয়েরো ডি’অলিভেইরা। এক কথায় ‘ডাক্তার’ সক্রেটিস।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলীওদের ওপর চলে আসা স্বৈরতান্ত্রিক অত্যাচার এবং তৎকালীন মিলিটারি শাসনের বিরুদ্ধে আচমকা গজিয়ে ওঠা ‘কোরিনথিয়ানস ডেমোক্রেসি’ নামক আন্দোলনটি প্রশাসনের গালে সপাটে চড়।

ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসকে আমরা ‘ওল্ড রিপাবলিক’, ‘ভারগাস ইয়ার’, ‘সেকেন্ড ব্রাজিলিয়ান রিপাবলিক’, ‘ব্রাজিলিয়ান মিলিটারি ডিকটেটরশিপ’ এবং ‘নিউ রিপাবলিক’- এই পাঁচ ভাগে ভাঙতে পারি। সময়টা ১৯৪৬ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মঞ্চে সবেমাত্র যবনিকা পড়েছে। এই সময় ব্রাজিলের নাগরিকরা দাবি তুললেন, রাষ্ট্রনেতা গেতুলিও ভারগাসকে পদত্যাগ করতে হবে। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। বলা বাহুল্য, গেতুলিও ভারগাসের রাজত্বের সমাপ্তি ঘটল ঠিকই। তবে, ক্ষমতা চলে গেল সোজা মিলিটারির হাতে।
১৯৬৪ সাল। সময়টাকে আমরা ‘ব্রাজিলিয়ান মিলিটারি ডিকটেটরশিপ’ নামে চিহ্নিত করে থাকি। গোটা দেশে গণতন্ত্রের নাম-গন্ধ, কিছুই নেই। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, সমস্তটাই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। পুঁজিপতিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফুটবল ক্লাবগুলোরও একই দশা। খেলোয়াড়রা কখন খাবেন, প্রশিক্ষণ নেবেন, ঘুমবেন— সবটাই মালিক পক্ষের হাতে। এভাবে কেটে গেল ১৫-১৬ বছর।
রাস্তা-ঘাটে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরছে মিলিটারি। একইভাবে, ক্লাবের ভিতরে খেলোয়াড়দের মৌলিক অধিকার হত্যা করছে মালিকপক্ষ। ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে গৃহীত এই সমস্ত স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জেহাদে নেমেই সক্রেটিস ‘কোরিনথিয়ানস ডেমোক্রেসি’ নামক আন্দোলনটির সূচনা করেন।
কেমন ছিল এই Corinthians Democracy আন্দোলন?
সক্রেটিস ভাবলেন, ফুটবলকে মিলিটারি শাসনের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, ‘‘গণতান্ত্রিকভাবে ভোটাভুটির দ্বারা ক্লাব সভাপতি নির্বাচিত করতে হবে। না-হ’লে খেলা এবং প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।’’ অবশেষে চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সক্রেটিসদের দাবি মেনে নিলেন। ১৯৮১ সালে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হ’ল। প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ালেন ওয়ালদেমার পিরেস এবং আদিলসন মন্তেরো আলভেস। উল্লেখ্য, আলভেস ছিলেন পুঁজিপতি দুনিয়ার দাপুটে প্রতিনিধি। শুরু হ’ল প্রচার। সক্রেটিস-সহ অন্যান্য খেলোয়াড়রা পিরেসের হয়ে গলা ফাটালেন। ভোট শেষে দেখা গেল, পিরেসই সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

গোটা দেশে মিলিটারি শাসনের জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। লুপ্ত মানুষের মৌলিক অধিকার। এমন সময়ে একটি ফুটবল ক্লাবের অন্দরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সভাপতি নির্বাচন ব্রাজিলিয়ানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হয়ে দাঁড়ায়। আর এটাই ছিল সক্রেটিসের মূল উদ্দেশ্য।
‘ডাক্তার’ সক্রেটিসের কথায়, ‘‘ক্লাব সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভোটাভুটির মাধ্যমে গৃহীত হ’ত। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, ক্লাবের অন্দরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’’
পরবর্তীকালে, ‘স্পোর্টস ক্লাব কোরিনথিয়ানস পাওলিস্তা’র ভক্তরা এই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘কোরিনথিয়ানস ন্যাশনাল পার্টি’ তৈরি করেন। ব্রাজিলের ৩৬তম রাষ্ট্রপতি দিলমা রৌসেফও (২০১১-২০১৬) এক সময় ‘কোরিনথিয়ানস ন্যাশনাল পার্টি’র
