Kalyan Banerjee
Bengal Liberty, ২৪ এপ্রিল :
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের মাঝেই ফুটে উঠল রসিকতার মিশেল (Kalyan Banerjee)। সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানির মাঝেই উঠে এল রাজ্যের ভোটের চিত্র। প্রথম দফার নির্বাচনে উচ্চ হারে ভোটদান এবং তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে, তারপরই ইতিবাচক মন্তব্য করলেন বিচারপতিরা। অন্যদিকে শুনানির মাঝেই দেখা গেল হালকা মেজাজের কথোপকথনও (Kalyan Banerjee)।

শীর্ষ আদালতে প্রশংসার সুর (Kalyan Banerjee)
তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও নজর কেড়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে উচ্চ শতাংশের ভোটদান দেখে আমি অত্যন্ত খুশি। মানুষ যখন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তখন তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।” একই সুরে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই ভোটদানের হারকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

“রাজায় রাজায় যুদ্ধহয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়”- জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য (Kalyan Banerjee)
কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও প্রথম দফার ভোট প্রসঙ্গে জানান, ৯২ শতাংশ ভোট পড়া ঐতিহাসিক। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল বলেই জানান তিনি। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন যে এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের হিংসার ঘটনা সামনে আসেনি, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে মামলার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি প্রবাদ টেনে বলেন, “রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়”, অর্থাৎ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে।

কমিশনের আইনজীবীকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ কল্যাণের (Kalyan Banerjee)
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানি চলাকালীনই নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে ৪ মে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়ে পরিবেশকে খানিকটা হালকা করে দেন। কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “৪ মে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” তাঁর এই আমন্ত্রণের জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী রসিকতা করে বলেন, “উনি যদি আগে কলকাতায় আসতেন, তাহলে সেই দায়িত্ব আমারই থাকত।” সলিসিটর জেনারেল মেহতা জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী খুব ভাল কাজ করেছে। প্রধান বিচারপতি কান্তও জানান, ভোটারেরা যদি নিজের ভোটের শক্তি উপলব্ধি করতে পারেন, তবে তাঁরা হিংসায় জড়ান না।
