phase 1 elections
Bengal liberty desk,23 এপ্রিল, কলকাতা:
শেষ হলো ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার মেগা ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার , উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল – রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে চলল গণতন্ত্রের মহোৎসব। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, বাংলায় ভোটদানের হার রেকর্ড ৯০ শতাংশ ছুঁইছুঁই। এর মধ্যে কোচবিহারে ৯২% এবং মুর্শিদাবাদে ৯১% ভোট পড়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই ভোটকে ‘বিগত কয়েক বছরের তুলনায় শান্তিপূর্ণ’ বলে সার্টিফিকেট দিলেও, সারাদিন কিন্তু নানা বৈচিত্র্যময় আর বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবরে তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি।

কোথায় হাসল মুখ, কোথায় চিন্তার মেঘ? phase 1 elections
বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ থাকলেও উত্তরবঙ্গের কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভোট মোটের ওপর শান্তিতেই মিটেছে। জঙ্গলমহলের জেলাগুলোতেও কড়া রোদের মাঝে ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো।
আবহাওয়া দপ্তরের রেড অ্যালার্ট জারি থাকা সত্ত্বেও বৈশাখের এই দহন সইতে না পেরে পটাশপুর, কেশপুর, মালতিপুর ও সিউড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৪ জন ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, যা এবারের ভোটের সবথেকে করুণ ঘটনা।
মজাদার আর অভিনব কিছু মুহূর্ত:
ভোটের টেনশনের মাঝেই বীরভূমের নানুরে দেখা গেল এক হাস্যকর ছবি। অভিযোগ, ভোটারদের মন গলাতে প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে গরম গরম মুড়ি আর ঘুগনি বিলি করেছে শাসকদল। এমনকি ডামি ইভিএম রেখে ভোটারদের ‘ট্রেনিং’ দেওয়ার মতো অনৈতিক অভিযোগও উঠেছে সেখানে। অন্যদিকে ধূপগুড়িতে দেখা গেল এক সুন্দর ছবি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় কেনা হলুদ শাড়ি পরে মহিলারা দলবেঁধে ভোট দিতে এসে দিনটিকে আক্ষরিক অর্থেই ‘লক্ষ্মীবার’ বানিয়ে তোলেন।
রক্তারক্তি আর অশান্তির খতিয়ান:
সব জায়গায় কিন্তু ছবিটা এত সুন্দর ছিল না। বীরভূমের লাভপুরে বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের মাথা ফেটেছে। দুবরাজপুরে তো পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ইটবৃষ্টি শুরু হয়, যাতে ৬ জন জওয়ান জখম হন। আসানসোলে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি ভাঙচুর এবং কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের ওপর সরাসরি হামলা কমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মুর্শিদাবাদের নওদাতেও হুমায়ুন কবীরের গাড়ি ভাঙচুর ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
কমিশনের কড়া দাওয়াই:
এত কিছুর পরেও এবারের ভোট ছিল নজরকাড়া। দেড় লক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন আর রেকর্ড পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে রাজ্য কার্যত মুড়ে ফেলেছিল কমিশন। পোলিং চলাকালীন লাঞ্চ করতে যাওয়ায় পিংলার ভোটকর্মীদের সাসপেন্ড করে কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা এবার কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। দিনের শেষে রেকর্ড ভোট আর জ্ঞানেশ কুমারের ‘শান্তিপূর্ণ’ তকমা কি সাধারণ মানুষের মনের প্রতিফলন? তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে। আপাতত তপ্ত বৈশাখে এক উত্তেজনাময় প্রথম দফার যবনিকা পতন হলো।
