Mamata Banerjee on Central govt
Bengal Liberty Desk, ৯ ডিসেম্বর, কলকাতা: কাজ করলে কাজের খরচের টাকার অঙ্কের হিসেবও যে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন তা করেনি তাঁর সরকার, এমনটাই দাবি করা হয়েছে বারংবার কেন্দ্রের তরফে। অথচ রাজ্য বরাবর দাবি করে এসেছে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে লোকসভা নির্বাচন কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকেই অস্ত্র করেছিল শাসকদল তৃণমূল-কংগ্রেস। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগেও ফের আরও একবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার দাবি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে (Mamata on Central govt)।
SIR-এর আবহে কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে মঙ্গলবার জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভায় শুরু থেকেই বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা। ১০০ দিনের কাজ নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

কী বললেন মমতা? (What Mamata Banerjee said) (Mamata on Central govt)
মমতা জানান, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এক বছর কেটে গিয়েছে। তার পরে কেন্দ্রের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে বেশ কিছু শর্ত চাপানো হয়েছে বলে এদিন কোচবিহারের সভা থেকে দাবি করেন তিনি। কেন্দ্র কী কী শর্তের কথা বলেছে, তার কয়েকটি উল্লেখ করে মমতা স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘আমরা এই শর্ত মানি না। ১০০ দিনের কাজ বাংলাই করবে।’’ তার পরেই ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্র যা বলেছে, তা যে কাগজে লিখে এনেছিলেন, সেটি সভামঞ্চেই ছিঁড়ে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা আরও বলেন, “চার বছর ধরে ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। আবাস যোজনার টাকাও বন্ধ। গ্রামীণ রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।’’ তার পরেই এই নিয়ে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা মনে করান মমতা।
১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ২০২১ সালের পর থেকে বাংলার বরাদ্দ বন্ধ রেখেছে রেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ‘কর্মশ্রী’ নামে একটি বিকল্প প্রকল্প চালু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের শ্রমিকদের নির্দিষ্ট দিনের কাজ দেওয়া হয়। সেই প্রকল্পের সাফল্যের কথা মনে করিয়ে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘আমরা কারও ভিক্ষা চাই না। বাংলা নিজের পায়ে দাঁড়াতে জানে।’’
মমতা বলেন, দু’দিন আগে ১০০ দিনের কাজ সংক্রান্ত একটি চিঠি কেন্দ্রের থেকে পেয়েছেন। তাঁর দাবি, সেই চিঠিতে কেন্দ্র কিছু শর্তের কথা বলেছে।
কী কী শর্ত? (Mamata Banerjee)
কেন্দ্রের চিঠির কিছু অংশ একটি সাদা কাগজে লিখে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কাগজ থেকে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ত্রৈমাসিক শ্রমবাজেট দেখাতে হবে।’’ অর্থাৎ, একশো দিনের কাজ নিয়ে শ্রম দফতরকে ত্রৈমাসিক হিসাব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। সেই কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাজেট দেখানোর সময় কোথায়? এটা ডিসেম্বর মাস। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা।’’
এ ছাড়াও, কেন্দ্রের দেওয়া আরও একটি শর্তের কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘‘বলা হয়েছে, একটা গ্রামসভায় মাত্র ১০ জন কাজ পাবে, এটা হয় কখনও? একটা পরিবারেই তো ১০ জন গরিব লোক থাকে।’’
মমতা জানান, একশো দিনের কাজে প্রশিক্ষণের কথাও নাকি বলা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বলছে ট্রেনিং দিতে হবে। বলছে না হলে নাকি জমির কাজ করা যাবে না।’’ তার পরেই সুর চড়িয়ে হাতের কাগজ দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘‘এটার কোনও ভ্যালু (মূল্য) নেই। ভ্যালুলেস (মূল্যহীন) কাগজ।’’ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ‘‘ আমরা আবার ক্ষমতায় আসব। আসব। কর্মশ্রীতে এ বার ৭৫ দিন কাজ হয়েছে। একশো দিনের কাজ বাংলাই করবে। চাই না তোমাদের ভিক্ষা।”
কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, শুধুই কি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অজুহাত? না কি নিজেদের দুর্নীতিকে আড়াল করতে একের পর এক মিথ্যে বুলি কোনটি? কেন্দ্রের তরফে টাকা নিলে কেন্দ্রের বেধে দেওয়া শর্তও যে মানা উচিত তা কি জানেন না মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন উঠছেই।
