Indian Fishermen Returns From Bangladesh
Bengal Liberty: দীর্ঘ তিন মাসের আইনি জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশের জেলে থাকা ৪৭ জন মৎস্যজীবী ফিরলেন দেশে। অপরদিকে ভারতের জেলে থাকা ৩৭ বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে ফেরানো হল তাদের দেশে। মৎস্যজীবীদের দু’দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে প্রত্যর্পণ করা হয়। দু’দেশের হাইকমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে এই বন্দিদের নিজেদের দেশে ফেরানো হয়।
সমুদ্রে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে পড়ায় প্রায় ৫ মাস পর বাংলাদেশের জেল থেকে মুক্তি মিলল তিনটি ট্রলার-সহ ৪৭ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীর। তাঁরা সকলেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বাসিন্দা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের দুটি ট্রলার-সহ ৩২ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরও মুক্তি মিলেছে। তারা তিনমাস আটক ছিলেন। গত ১৩ জুলাই কাকদ্বীপের দুটি ট্রলার ‘এফবি মা মঙ্গলচণ্ডী-৩৮’ ও ‘এফবি ঝড়’ এবং গত ২ আগস্ট কাকদ্বীপেরই আরও একটি ট্রলার ‘এফবি পারমিতা’-কে বঙ্গোপসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ায় আটক করেছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

মৃত্যু এক মৎস্যজীবীর (Return 47 fisherman)
এই তিন ট্রলারে থাকা ৪৮ জন ভারতীয়র মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয় বিচারাধীন অবস্থায়। বাকি ৪৭ জন বুধবার ফিরে আসেন ভারতে। মৃত মৎস্যজীবীর নাম বাবুল দাস। হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম গঙ্গাধরপুরের বাসিন্দা বাবলু। মৃত ওই মৎস্যজীবী জন্মগতভাবে মূক ও বধির ছিলেন বলে জানা গেছে। সূত্রের খবর,
জুলাই মাসে ‘এফবি মঙ্গলচণ্ডী-৩৮’ ট্রলারে চেপে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ভুলবশত আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় বাবুল-সহ মোট ৩৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে বাংলাদেশের নৌসেনা আটক করে। পরে বিচারাধীন থাকাকালীন ওই মৎস্যজীবী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ওই মৎস্যজীবীর কফিনবন্দি দেহ আগেই দেশে ফিরেছে। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি,বাবুল একদমই সুস্থ ছিলেন, কোনও শারীরিক অসুখ ছিল না। তাই তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সন্দিহান তাঁর পরিবারের সদস্যরা।পরিকল্পিত খুন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
একইভাবে ভারতের এলাকায় ঢুকে মাছ ধরার দায়ে আটক করা হয়েছিল বাংলাদেশি ট্রলার ‘বাবার আশীর্বাদ’ ও ‘মায়ের দোয়া’- কে। তাতে থাকা ৩২ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরও এদিন মুক্তি মিলেছে। নতুন বর্ষের আগে মৎস্যজীবীদের নিজ দেশে ফিরে আসার আনন্দে মেতে উঠেছে কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী মহল।
