Bengal Liberty : আইএসএলে শনিবার মহারণ। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হতে চলেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও পঞ্জাব এফসি। একদিকে ঘরের মাঠে জয়ের ধারা বজায় রাখার লক্ষ্যে সবুজ-মেরুন, অন্যদিকে চলতি মরসুমে নিজেদের অপরাজিত দৌড় ধরে রাখতে মরিয়া পঞ্জাব এফসি। ফলে দুই দলের এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বাড়ছে উত্তেজনা।
জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামছে মোহনবাগান
মরসুমের শুরুতে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হার দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল মোহনবাগান। তবে সেই ধাক্কা সামলে পরপর দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে মেরিনার্সরা। শেষ ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় পেয়েছে সবুজ-মেরুন। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মনবীর সিংয়ের গোলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় মোহনবাগানের।
তবে জিতলেও দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়েছে। পঞ্জাবের মতো গতিশীল দলের বিরুদ্ধে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে আরও ধারালো ফুটবল খেলতে চাইবেন কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস। বিশেষ করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোই হতে পারে মোহনবাগানের জয়ের চাবিকাঠি।
আরও খবর
অপরাজিত পঞ্জাবকে নিয়ে সতর্ক মেরিনার্সরা
অন্যদিকে, চলতি আইএসএলে দারুণ ছন্দে রয়েছে পঞ্জাব এফসি। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। দুই জয় ও একটি ড্র নিয়ে কলকাতায় আসছে পঞ্জাব। শেষ ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে শেররা। সেই ম্যাচে ৯৫ মিনিটে সানাথোই সিংয়ের গোলে জয় নিশ্চিত হয় পঞ্জাবের।
চলতি মরসুমে শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার নজির রয়েছে পঞ্জাবের। ফলে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে মোহনবাগান রক্ষণকে। রাফায়েল মেসি বউলির গোল করার ক্ষমতা ইতিমধ্যেই প্রতিপক্ষের কাছে বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।
মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে মোহনবাগান
আইএসএলে এখনও পর্যন্ত দুই দলের পাঁচটি সাক্ষাতের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে মোহনবাগান। অর্থাৎ, লিগের ইতিহাসে এখনও মেরিনার্সদের হারাতে পারেনি পঞ্জাব। তবে চলতি মরসুমে পঞ্জাবের পারফরম্যান্স বলছে, অতীতের পরিসংখ্যান দিয়ে এই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে পঞ্জাবের অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস এবং মোহনবাগানের ঘরের মাঠের সুবিধা, দুইয়ের সংঘাতে জমে উঠতে পারে লড়াই। উল্লেখ্য, আইএফএ শিল্ডের সেমিফাইনালে দুই দল নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ফাইনালে উঠেছিল মোহনবাগান।
সব মিলিয়ে একদিকে মোহনবাগানের ঘরের মাঠের দাপট, অন্যদিকে পঞ্জাবের অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস। শনিবারের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে, এখন সেটাই দেখার।


