Bengal Liberty : কলামিস্ট: নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র আজ আর রাষ্ট্রের নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি অফিস, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আজ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। গত ২২ মাসে দেশে যে নজিরবিহীন দলীয়করণ হয়েছে, তা স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে কখনো দেখা যায়নি।
সচিবালয় থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, থানা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ – সর্বত্রই একই চিত্র। যেদিকে তাকানো যায়, সেদিকেই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দখলদারিত্ব। সাধারণ মানুষ আজ রাষ্ট্রীয় সেবা নিতে গিয়ে বিএনপির নেতাদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হচ্ছে।
আরও খবর
সচিবালয়ে নগ্ন দলীয়করণ
বাংলাদেশ সচিবালয়, যাকে রাষ্ট্রের হৃদপিণ্ড বলা হয়, সেখানেও আজ বিএনপির পতাকা উড়ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৩ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, বদলি করা হয়েছে, ওএসডি করা হয়েছে। তাদের জায়গায় বসানো হয়েছে বিএনপি-জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের। যারা ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপির আমলে সুবিধা নিয়েছিল, যারা হাওয়া ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তারাই আজ সচিব, অতিরিক্ত সচিব।
একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখন ফাইল চলে না, ফাইল চলে বিএনপির সুপারিশে। কোনো কাজ করতে গেলে প্রথমে বিএনপির স্থানীয় নেতার ফোন আসে।”
পুলিশ প্রশাসন আজ বিএনপির লাঠিয়াল বাহিনী
পুলিশের অবস্থা আরও ভয়াবহ। থানাগুলো এখন বিএনপির অফিস। ওসি নিয়োগ হচ্ছে বিএনপির জেলা সভাপতির সুপারিশে। পুলিশে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ৫০০-এর বেশি কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
সিলেটের এক ভুক্তভোগী জানান, “থানায় জিডি করতে গিয়েছিলাম, ওসি সাহেব বললেন, বিএনপি অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে আসেন।” এই হলো দেশের আইন-শৃঙ্খলার বাস্তব চিত্র। পুলিশ এখন আর জনগণের বন্ধু নয়, পুলিশ এখন বিএনপির ক্যাডার।
ডিসি-ইউএনও অফিসে বিএনপির দখলদারিত্ব
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও একই অবস্থা। সরকারি বরাদ্দ, টিআর, কাবিখা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা – সবকিছু বণ্টন হচ্ছে বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে, “বিএনপি করো, তাহলে ভাতা পাবে।” মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষকে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে ভিসি নিয়োগ পর্যন্ত সবকিছু হচ্ছে ছাত্রদলের প্রেসক্রিপশনে। হাসপাতালে ডাক্তারদের বদলি, ব্যাংকে ঋণ বিতরণ – সবখানে বিএনপির হস্তক্ষেপ।
এর পরিণতি কী?
রাষ্ট্র যখন দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়, তখন রাষ্ট্র থাকে না। থাকে শুধু দল। আজ বাংলাদেশে সেটাই হয়েছে। ১৮ কোটি মানুষের রাষ্ট্রকে একটি দলের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ আজ রাষ্ট্রহীন। তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
রাষ্ট্রের কাছে গেলে বিএনপি, পুলিশের কাছে গেলে বিএনপি, আদালতে গেলে বিএনপি। দেশের বিবেকবান মানুষ বলছেন, এই অবস্থা চলতে পারে না। রাষ্ট্রকে রাষ্ট্রের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। রাষ্ট্রের অফিসকে আবার রাষ্ট্রের অফিস বানাতে হবে। দলীয় অফিসকে দলীয় অফিসেই থাকতে হবে। নাহলে এই রাষ্ট্র একদিন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যার দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।


