Bengal Liberty : কলামিস্ট: নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.
“আকাশ আমার ছাদ হবে, মাটি আমার ঘর হবে। তবুও আমি জনগণের পাশে থাকব।”
একটি ইউটিউব চ্যানেলের আবেগঘন সাক্ষাৎকারে এই কথাটি বলেছিলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। ছোট্ট একটি বাক্য, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একজন নেত্রীর সারাজীবনের ত্যাগ, বেদনা, সংগ্রাম আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মহাকাব্য।
আরও খবর
তিনি আজ মানবিক, বিনয়ী এক নেত্রী। যিনি জীবনের সবকিছু হারিয়েছেন। বাবা, মা, ভাই, ভাতিজা – এক রাতে ঘাতকের বুলেট কেড়ে নিয়েছে তাঁর পুরো পরিবার। আপন বলতে কেউ নেই। ছিল শুধু ছোট বোন শেখ রেহানা। সেই শূন্য হাতে দেশে ফিরে তিনি আঁকড়ে ধরেছিলেন একমাত্র সম্বল – বাংলাদেশের জনগণকে।
জনগণই তাঁর পরিবার, জনগণই তাঁর শক্তি, জনগণই তাঁর শেষ আশ্রয়।
জীবনের ৫০ বছর তিনি নিজের জন্য বাঁচেননি। বেঁচেছেন মানুষের জন্য। সুখে-দুঃখে, হাসি-কান্নায় সবসময় মানুষের পাশে থেকেছেন। যখন বন্যা হয়েছে, ছুটে গেছেন বানের জলে। যখন করোনা মহামারীতে পুরো বিশ্ব লকডাউনে, তখন তিনি রাত জেগে খোঁজ নিয়েছেন – আমার কোনো মানুষ না খেয়ে আছে কিনা।
এই তো সেই নেত্রী, যিনি প্রধানমন্ত্রী থেকেও রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, কৃষকের কথা ভেবেছেন। ১০ টাকায় চাল, বিনামূল্যে বই, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, গৃহহীনকে ঘর – তাঁর প্রতিটি কাজে ছিল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা।
তিনি চাইলে বিলাসী জীবন কাটাতে পারতেন। বিদেশে নিরাপদ, আরামদায়ক জীবন বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন কাঁটার মুকুট। বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, বারবার হত্যার ষড়যন্ত্র – কোনো কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। কারণ তিনি জানতেন, তাঁকে বাঁচতে হবে এই মানুষগুলোর জন্য।
আজ যখন তিনি দেশ থেকে দূরে, তখনো তাঁর মন পড়ে আছে বাংলার মাটিতে। সেই সাক্ষাৎকারে তাঁর চোখে ছিল জল, কণ্ঠে ছিল কাঁপা কাঁপা আবেগ। তিনি বলছিলেন, আমার ঘর লাগবে না, বাড়ি লাগবে না। যদি জনগণের পাশে থাকতে হয়, আকাশকে ছাদ আর মাটিকে ঘর বানাতেও আমি প্রস্তুত।
এটাই শেখ হাসিনা। ক্ষমতা তাঁর কাছে বড় নয়, মানুষ বড়। পদ-পদবি তাঁর কাছে তুচ্ছ, জনগণের ভালোবাসাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
তিনি নিজেকে বারবার বিসর্জন দিয়েছেন। ১৯৮১ সালে সব হারিয়ে দেশে ফিরে এসে নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন। ২০০৭ সালে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন। আর আজও, জীবনের এই প্রান্তে এসেও তিনি আবার নিজেকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত – শুধু দেশের জন্য, মানুষের জন্য।
মা যেমন সন্তানের জন্য সব ত্যাগ করে, শেখ হাসিনাও তেমনি ১৮ কোটি মানুষের জন্য নিজের সব সুখ বিসর্জন দিয়েছেন। তাই তো গ্রামের বৃদ্ধা মা, শহরের রিকশাওয়ালা, কলেজের ছাত্র – সবাই আজও তাঁর জন্য দু’হাত তুলে দোয়া করে।
আকাশ ছাদ হবে, মাটি ঘর হবে – এটা শুধু একটি কথা নয়, এটা একজন জননেত্রীর অঙ্গীকার। এটাই প্রমাণ করে, তিনি আবার ফিরবেন। জনগণের টানে, মাটির টানে তাঁকে ফিরতেই হবে। কারণ এই মাটি, এই আকাশ, এই জনগণ – সবাই আজও তাঁর অপেক্ষায়।


