Bengal Liberty : মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে এবার শান্তি ফেরাতে বড়সড় আর্থিক প্রস্তাব সৌদি আরবের! ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ করতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াধ, এমনই দাবি একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। অন্যদিকে, এই সংঘাতের অবসানে ফের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় উঠে এসেছে পাকিস্তান। ফলে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইজরায়েল হায়োম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের মধ্যস্থতায় হাউথিদের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। তবে এই আর্থিক প্রস্তাবের বিষয়টি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব, কী শর্ত সৌদির?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রস্তাবিত আর্থিক প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হাউথিদের হামলা বন্ধ করা এবং সংঘর্ষবিরতি বজায় রাখা। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, তেলকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা বন্ধের বিনিময়ে এই আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। পাশাপাশি, হাউথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন মেটানো এবং অসামরিক পরিকাঠামো পুনর্গঠনের জন্যও এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। যদিও প্রস্তাবের চূড়ান্ত শর্তাবলি কিংবা হাউথিদের সম্মতির বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
আরও খবর
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, তেহরানে বৈঠক
এই পরিস্থিতিতে ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের ভূমিকা। গত ২৬ অক্টোবর ইরানের রাজধানী তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি নেতৃত্বের বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সলমন এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা। চার দেশই ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
সব মিলিয়ে সৌদি আরবের আর্থিক প্রস্তাব, ইরানের মধ্যস্থতা এবং পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, কিংবা হাউথিরা সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।


