Bengal Liberty : কলামিস্ট: নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সমাজসেবক ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.
বাংলাদেশ আজ এক ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূসের অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের উত্তরসূরী হিসেবে বিএনপি-জামাত চক্র যে সরকার গঠন করেছে, তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের দমন-নিপীড়নের এক মহা-পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হচ্ছে, গুম-খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদের এই স্বপ্ন কখনো বাস্তবায়ন হবে না। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের সামনে কোনো স্বৈরাচারের দেওয়াল আজ পর্যন্ত টেকেনি। এর কোনো উদাহরণ পৃথিবীর ইতিহাসে নেই।
রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়-ভীতি প্রদর্শন
প্রতিদিন খবর আসছে, দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে রাতের আঁধারে পুলিশ হানা দিচ্ছে। মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। থানায় নিয়ে বলা হচ্ছে – “রাজনীতি ছাড়, না হলে ক্রসফায়ারে দেব।” এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি সরকারের পক্ষ থেকে এবং সরকারের সরাসরি নির্দেশনায় রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিকল্পিত ভয়-ভীতি প্রদর্শন।
আরও খবর
তারা মনে করছে, বন্দুকের নল আর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগের কোটি কোটি নেতা-কর্মীকে দমিয়ে রাখবে। তারা ভুলে গেছে, আওয়ামী লীগ কোনো স্রোতে ভেসে আসা দল নয়। এই দলের জন্ম হয়েছে রক্ত দিয়ে, সংগ্রাম দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে। এই দলকে বুলেট দিয়ে দমানো যায় না।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও এই চেষ্টা করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে, নেতা-কর্মীদের হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধকে দমানো যায়নি। ১৯৮১ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচার এরশাদও একই ভাবে আওয়ামী লীগকে দমনের চেষ্টা করেছিল। পারেনি। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছিল, তারপরও আওয়ামী লীগকে শেষ করতে পারেনি।
জনসমর্থনহীন সরকার কি টিকে থাকবে
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন – এই ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কি রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে, যেখানে জনগণের কোনো সমর্থন নেই?
আজ গ্রামে যান, মানুষ বলবে চালের দাম ৮০ টাকা। বাজারে যান, মানুষ বলবে তেল কিনতে পারে না। চায়ের দোকানে যান, মানুষ বলবে – “আগেই ভালো ছিলাম, শেখ হাসিনার আমলেই ভালো ছিলাম।” এই সরকারের প্রতি মানুষের কোনো ভালোবাসা নেই, কোনো আস্থা নেই। আছে শুধু ঘৃণা।
যে সরকারের পেছনে জনগণ নেই, সে সরকার টেকে কিভাবে? টেকে শুধু পুলিশ, র্যাব আর প্রশাসনের বন্দুকের ওপর ভর করে। কিন্তু বন্দুক দিয়ে কতদিন? জনগণ যখন জেগে ওঠে, তখন সব বন্দুক অকেজো হয়ে যায়।
শেষ কথা পতন অনিবার্য
সব শেষে একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই – জনগণের শক্তির সামনে এইসব ভয়-ভীতি, ক্রসফায়ারের নাটক কিছুই না। এই সরকারের পতন হবেই। এটি সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সামনে যে ভয়ংকর পরিণতি আসছে, তার জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। যারা আজ নিরীহ মানুষের বুকে বন্দুক তাক করছে, যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে, তারা পালানোর রাস্তাও খুঁজে পাবে না। বাংলার মাটি বেইমানদের ক্ষমা করে না।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই – যত মিথ্যা মামলা দেবেন, যত গ্রেপ্তার করবেন, আন্দোলন তত বেশি গতিশীল, তত বেশি বেগবান হবে। প্রতিটি গ্রেপ্তার একটি নতুন মিছিলের জন্ম দেবে, প্রতিটি মামলা একটি নতুন প্রতিরোধের জন্ম দেবে।
আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতনের অবসান ঘটাবোই। দেশে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনবো, জয় বাংলার স্লোগানে আবার বাংলার আকাশ-বাতাস মুখরিত হবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


