Bengal Liberty : কলামিস্ট: প্রাইমা হোসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও সংগঠক.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নামক দলটির ইতিহাসে কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে, সাংবিধানিকভাবে এবং গণতান্ত্রিক রীতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো নজির নেই। প্রতিবারই তাদের ক্ষমতা ত্যাগ বা ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পেছনে ছিল ষড়যন্ত্র, কারচুপি, অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ এবং রক্তপাত।
জন্মগত ত্রুটি তত্ত্ব ক্ষমতা দখল দিয়ে শুরু
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বন্দুকের নলের মুখে। তিনি একজন সেনা কর্মকর্তা হয়ে অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং সেনা ছাউনিতে বসে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। যে দলের জন্মই সংবিধান হত্যা এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে, সেই দলের রক্তে কখনোই গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা ছাড়ার সংস্কৃতি থাকতে পারে না। এটাই তাদের আদি পাপ।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার তত্ত্ব
১৯৯১ সালে বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলেও ১৯৯৬ সালে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গণদাবিকে উপেক্ষা করে খালেদা জিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে একটি একদলীয়, ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন করেছিলেন। সেই নির্বাচনে দেশের ৯৫% ভোটার ভোট কেন্দ্রে যায়নি। লাগাতার গণআন্দোলন এবং দেশব্যাপী অসহযোগের মুখে বাধ্য হয়ে তারা পদত্যাগ করে। স্বেচ্ছায় তারা কখনোই ক্ষমতা ছাড়েনি।
২০০১ থেকে ২০০৬ নির্বাচন প্রকৌশলী তত্ত্ব
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী কারচুপির নীলনকশা করে। তারা বিচারপতি কে এম হাসানের বয়স বাড়িয়ে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার আইন করে, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি করে এবং আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন গঠন করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দিনের ভোট রাতে করে আবার ক্ষমতা দখল করা। এর ফলেই দেশে ওয়ান-ইলেভেন এবং জরুরি অবস্থা আসে। তারা যদি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছাড়তেই চাইতো, তবে এই কারচুপির প্রয়োজন হতো না।
ক্ষমতার বাইরে ধ্বংসের তত্ত্ব
আওয়ামী লীগ ২০০১ এবং ১৯৯৬ সালে পরাজয় মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি যখনই ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখনই তারা আগুন সন্ত্রাস, পেট্রোল বোমা, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি শুরু করে। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তারা প্রায় ৫০০ নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এটি প্রমাণ করে, তারা ভোটে নয়, সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। ১২, ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন তারই ধারাবাহিকতার একটি অংশ। জামাত-বিএনপি যৌথ সাধারণ নির্বাচনের অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে। প্রিয় দেশবাসী আপনারাই বিবেচনা করুন এখন গণতন্ত্র কোথায় আছে? তারা তো আগে গণতন্ত্রের কথা বলতো।

যে দলের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি উদাহরণও নেই, সেই দলের হাতে দেশ কখনোই নিরাপদ নয়। আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে বিএনপি ক্ষমতায়, জনগণ জানে তারা ক্ষমতায় থাকলে আর কখনো ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা ছাড়বে না। তারা দেশকে আবার ২০০১-২০০৬ সালের মতো দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও হাওয়া ভবনের লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করবে।


