কলামিস্ট: প্রাইমা হোসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও সংগঠক.
Bengal Liberty : বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যে দেশ একসময় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল, সেই দেশ আজ দিশেহারা। চারিদিকে হাহাকার, অনিশ্চয়তা আর অন্ধকার। এই অন্ধকার থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো বিকল্প নেই।
কেন ফিরতে হবে আওয়ামী লীগকে? উত্তরটা ইতিহাসে, বাস্তবতায় এবং মানুষের হৃদয়ে লুকিয়ে আছে।
আরও খবর
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায়
আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি অনুভূতির নাম, একটি ইতিহাসের নাম। এই দলটির জন্মই হয়েছে বাংলাদেশকে জন্ম দেওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দলই এদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আজ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, যখন রাজাকার-আলবদরদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে, যখন জয় বাংলা স্লোগান দিলে মামলা দেওয়া হচ্ছে, তখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের একমাত্র শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগকেই ফিরতে হবে। নাহলে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।
উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য
গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে, তা গত ৫০ বছরে কেউ করতে পারেনি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র – একেকটি মেগা প্রকল্প আজ বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে উন্নত দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪০% থেকে ১৮%-এ নামিয়ে আনা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন – এগুলো আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ভাবতেও পারেনি। আজ সেই উন্নয়নের চাকা থেমে গেছে। জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, বিদ্যুৎ থাকে না, শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ আবার সেই পুরনো স্থিতিশীল, উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ চায়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার জন্য
আওয়ামী লীগ সবসময় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশ্বাস করে। এই দলের আমলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই নিরাপদে বসবাস করেছে। মন্দিরে হামলা হলে শেখ হাসিনা নিজে খবর নিয়েছেন, বিচার নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু আজ? আজ সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর পোড়ানো হচ্ছে, মন্দির ভাঙা হচ্ছে, মৌলবাদী উগ্রপন্থীরা প্রকাশ্যে মিছিল করছে। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। এই জঙ্গি-মৌলবাদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করার সাহস একমাত্র আওয়ামী লীগেরই আছে।
সাধারণ মানুষের ভরসার জন্য
আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হলো সাধারণ মানুষ। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ছাত্র, শিক্ষক – সবার ভরসার জায়গা ছিল আওয়ামী লীগ। ভর্তুকি দিয়ে সারের দাম কম রাখা, ১০ টাকায় চাল, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা – মানুষের কল্যাণে এমন একশোর বেশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শেখ হাসিনা চালু করেছিলেন। আজ সেই ভাতা বন্ধ, সারের দাম দ্বিগুণ, চালের দাম ৮০ টাকা। মানুষ আজ অসহায়। তাই বলতে চাই, আওয়ামী লীগের ফিরে আসা কোনো দলের ক্ষমতায় ফেরা নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই। এটি উন্নয়নের ধারায় ফিরে আসার লড়াই। এটি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে ফিরে আসার লড়াই। দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আওয়ামী লীগকে ফিরতেই হবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


