Bengal Liberty, নয়ন বিশ্বাস রকি : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬ বছরের ইতিহাস একটি সংগ্রামের ইতিহাস। এই দল কখনো সামনে থেকে আসা শত্রুর কাছে মাথা নত করেনি। ব্রিটিশ, পাকিস্তানি, সামরিক স্বৈরাচার – কোনো চিহ্নিত শত্রুই আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারেনি। যখনই এই দল হোঁচট খেয়েছে, পিছিয়েছে, তখনই আঘাত এসেছে ভেতর থেকে। ঘরের শত্রু বিভীষণ আর পিছন থেকে ছুরি মারা মীর জাফরদের কারণে।
ইতিহাস তার সাক্ষী –
১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলন : এটাই ছিল আওয়ামী লীগের বুকে প্রথম ছুরি। মওলানা ভাসানীকে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠী দল ভাঙলো। তারা ন্যাপ গঠন করলো। উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে দুর্বল করা। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেমে থাকেনি, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট : এটা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘরের শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা। খন্দকার মোশতাক আহমেদ – বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা। তিনি পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করলেন খুনি ফারুক-রশিদদের সাথে হাত মিলিয়ে। সেদিন যদি আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকতো, যদি মোশতাকরা গাদ্দারি না করতো, তাহলে ১৫ আগস্ট হতো না। সামনের শত্রু পাকিস্তান যা ৯ মাসে পারেনি, ঘরের শত্রু এক রাতে তা করে দিল।
আরও খবর
১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর জেলহত্যা: জেলের ভেতর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হলো। এই হত্যার নীলনকশাও এঁকেছিল সেই মোশতাক গং। যারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদেরকেই জেলের ভেতর হত্যা করা হলো, যাতে আওয়ামী লীগ আর কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।
১৯৮১-১৯৯০ : শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগকে বারবার ভাঙার চেষ্টা হয়েছে। কখনো মহিউদ্দিন আহমেদ, কখনো ড. কামাল হোসেন, কখনো আবদুর রাজ্জাক – এদের দিয়ে আওয়ামী লীগ ভাঙার চেষ্টা হয়েছে। তারা বাকশাল, গণফোরাম, বাসদ করেছে। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা বেঈমানদের চিনেছে, তাই দল টিকে গেছে।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন : এটাই ছিল আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘরের শত্রুর খেলা। ড. ইউনুস, ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন গং যখন ক্ষমতা দখল করলো, তখন আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই কিছু নেতা “সংস্কারপন্থী” নামে দল ভাঙতে চেয়েছিল। তারা শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করতে চেয়েছিল। মান্নান ভূঁইয়া বিএনপি ভাঙতে চেয়েছিল, আর আমাদের ভেতর থেকে কয়েকজন সুযোগ সন্ধানী একই কাজ করতে চেয়েছিল। সেদিন যদি নেত্রী কঠোর হাতে সেই মীর জাফরদের দমন না করতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ আজ থাকতো না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট : ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। এবারও সামনে ছাত্রদের ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু পিছনে কলকাঠি নেড়েছে ঘরের শত্রু। কারা সেদিন নেত্রীকে ভুল বুঝিয়েছে? কারা গোয়েন্দা রিপোর্ট গোপন করেছে? কারা পুলিশ-প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখেছে? আজ আস্তে আস্তে সব বের হচ্ছে। যাদেরকে নেত্রী বুকে টেনে নিয়েছিলেন, তারাই পিছন থেকে ছুরি মেরেছে।
শিক্ষা কি?
আওয়ামী লীগের শত্রু বিএনপি-জামাত তা ঠিক আছে কিন্তু বিএনপি মাঝে মাঝে সামনে থাকে আবার গুপ্ত হয়ে যায় আর জামাত হচ্ছে মৌলবাদী উগ্রপন্থী জঙ্গি সন্ত্রাসী ধর্ম ব্যবসায়ী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অভিনয় করতে পারে। তারা চিহ্নিত শত্রু। তাদের সাথে লড়াই করা যায়। আওয়ামী লীগের আসল শত্রু হলো সুবিধাবাদী, হাইব্রিড, কাউয়া, যারা দুঃসময়ে সবার আগে পালায়, আর সুসময়ে সবার আগে মধু খায়।
যারা নৌকায় বসে নৌকা ফুটো করে। যারা মুজিব কোট পরে মুজিবের আদর্শ বিক্রি করে।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমার চারপাশে চাটার দল।” আজ তার কথাই সত্য প্রমাণিত হচ্ছে।
তাই এখন সময় এসেছে ঘর পরিষ্কার করার। দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিল, জেল খেটেছে, মামলা খেয়েছে – তারাই আসল আওয়ামী লীগ। আর যারা ফেসবুকে বিপ্লব করেছে, বিদেশে বসে জ্ঞান দিয়েছে, আর ৫ আগস্টের পর পল্টি মেরেছে – তারাই ঘরের শত্রু।
মনে রাখতে হবে – নৌকা কখনো ঝড়ে ডোবে না, নৌকা ডোবে ভেতরের ছিদ্রের কারণে। সেই ছিদ্র বন্ধ করতে পারলেই আওয়ামী লীগ আবার ফিরবে, বীরের বেশে ফিরবে। কারণ আওয়ামী লীগ শেষ হয় না, আওয়ামী লীগ ফিরে আসে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


