Bengal Liberty: নয়ন বিশ্বাস রকি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সমাজকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.
স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বাংলাদেশ এতটা সংকটে পড়েনি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষ, ২০০৭ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার – অনেক সংকট আমরা দেখেছি। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালে যা চলছে, তা সব অতীতকে হার মানিয়েছে। দেশ আজ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার পথে।
আজ শুধু একটি খাতের হিসাব দিলেই বোঝা যাবে দেশ কিভাবে চলছে।
আরও খবর
জ্বালানি খাতে লুটপাটের মহোৎসব
সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে বরাদ্দ করেছে ৪১ হাজার কোটি টাকা। কাগজে কলমে এটি জনগণের জন্য ভর্তুকি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভয়াবহ। অর্থবছরের মাত্র তিন মাসেই খরচ হয়ে গেছে ১৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ৪৬% বরাদ্দ তিন মাসেই শেষ।
প্রশ্ন হলো – টাকা গেলো কোথায়?
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলার থেকে ৭৫ ডলারে নেমেছে। তাহলে বাংলাদেশে খরচ বাড়লো কিভাবে? উত্তর একটাই – দুর্নীতি, অদক্ষতা আর সিন্ডিকেট।
শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে একই পরিমাণ তেল আমদানিতে খরচ হতো ১২ হাজার কোটি টাকা। এখন খরচ হচ্ছে ১৯ হাজার কোটি টাকা। বাড়তি ৭ হাজার কোটি টাকা কোথায় যাচ্ছে? যাচ্ছে ইউনুস-বিএনপির পকেটে, তাদের সিন্ডিকেটের পকেটে।
তারা বাজারভিত্তিক ডলারের নামে ডলারের দাম ১২৪ টাকা করেছে। ফলে আমদানি খরচ ৩০% বেড়ে গেছে। আবার সেই বাড়তি দামের বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপাতে রাতের আঁধারে তেলের দাম লিটারে ২৫-২৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। একদিকে সরকারের লুটপাট, অন্যদিকে জনগণের পকেট কাটা।
এভাবে দেশ চলতে পারে না
তিন মাসে যদি ১৯ হাজার কোটি টাকা শেষ হয়, তাহলে ১২ মাসে লাগবে ৭৬ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ৪১ হাজার কোটি, ঘাটতি ৩৫ হাজার কোটি। এই টাকা কোথা থেকে আসবে? আবার জনগণের উপর কর বসবে, আবার তেলের দাম বাড়বে, আবার বিদ্যুতের দাম বাড়বে।
এর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে।
. পরিবহন খরচ ৪০% বেড়েছে, বাস ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
. বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে, লোডশেডিং গ্রামে ৮-১০ ঘন্টা।
কৃষকের সেচ খরচ দ্বিগুণ, সারের দাম আকাশছোঁয়া।
শিল্প কারখানা বন্ধ হচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে।
যে দেশ একসময় উন্নয়নের রোল মডেল ছিল, সেই দেশ আজ “লুটপাটের রোল মডেল”।
কেন এই অবস্থা?
কারণ এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সংসদে বিরোধী দল নেই। মিডিয়া কথা বলতে ভয় পায়। ফলে ৪১ হাজার কোটি টাকার কোনো অডিট নেই, কোনো প্রশ্ন করার মানুষ নেই।
শেখ হাসিনার আমলে প্রতিটি প্রকল্পের হিসাব ছিল স্বচ্ছ। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক প্রশংসা করতো। এখন আইএমএফ নিজেই বলছে – “Governance failure in Bangladesh energy sector.”
তাহলে কিভাবে চলবে দেশ?
এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশকে বাঁচাতে হলে তিনটি কাজ করতে হবে।
প্রথম, জ্বালানি খাতের এই লুটপাটের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। ১৯ হাজার কোটি টাকা কিভাবে খরচ হলো, তার প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণকে দিতে হবে।
দ্বিতীয়, বাজারভিত্তিক ডলারের নামে টাকার মান ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে। ভর্তুকি প্রত্যাহারের নামে জনগণের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।
তৃতীয়, দেশকে সত্যিকারের জনগণের সরকারের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত নেতৃত্ব ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশ কখনো মাথা নত করেনি। ১৮ কোটি মানুষ আজ জেগে উঠছে। তারা প্রশ্ন করছে – আমার টাকা কোথায় যায়?
এই প্রশ্নের উত্তর না দিলে, কোনো সরকারই টিকতে পারবে না। জ্বালানি খাতে ৪১ হাজার কোটির হিসাব দিতে হবে, নইলে জনগণই হিসাব নেবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


