Bengal Liberty: নয়ন বিশ্বাস রকি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সমাজকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.
তারেকের বাংলাদেশে এখন অবৈধ, মিথ্যা, বানোয়াট মামলার বিপক্ষে আদালতে দাঁড়ানোও কি অপরাধ? প্রশ্নটা আজ সারা বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজ ও সাধারণ মানুষের।
মধ্যরাতে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হলো নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, এডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজলকে। তার অপরাধ কি? গতকাল তিনি নারায়ণগঞ্জের নগর পিতা, জননন্দিত বারবার নির্বাচিত মেয়র, সাহসী ও সত্যের পক্ষে প্রতিবাদী মহিয়সী নারী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে নারায়ণগঞ্জ জজকোর্টে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ ছিল না।
আরও খবর
একজন আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন, এটাই কি তার অপরাধ? এই প্রশ্ন আজ ১৮ কোটি মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আইন কি বলে?
বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন সুস্পষ্টভাবে বলছে – একজন আইনজীবীকে গ্রেফতার করা শুধু বেআইনি নয়, এটি বিচার ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত।
সংবিধানের ৩৩(১) এবং ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ: প্রত্যেক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। যদি আইনজীবীকেই গ্রেফতার করা হয়, তাহলে এই মৌলিক অধিকার ধ্বংস হয়ে যায়।
The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর ৪১ অনুচ্ছেদ: একজন আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য কোনোভাবেই ফৌজদারি মামলার শিকার হতে পারেন না। আদালতে আসামির পক্ষে দাঁড়ানো তার পেশাগত অধিকার, এটি কোনো অপরাধ নয়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়: ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে – “একজন আইনজীবীকে তার মক্কেলের পরিচয়ের জন্য দায়ী করা যাবে না।” অর্থাৎ আইভীর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য কাজলকে গ্রেফতার করা সম্পূর্ণ অবৈধ।
আইনের মূলনীতি: “A lawyer is not his client’s keeper.” আইনজীবী তার মক্কেলের অভিভাবক নন। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সহায়ক।
তাহলে তারেক রহমানের লাঠিয়াল পুলিশ বাহিনী কোন আইনে মধ্যরাতে একজন আইনজীবীকে তুলে নিয়ে গেল?
বিএনপির আইনের শাসন মানে কি?
বিএনপি আগে বলেছিল – তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ফিরিয়ে দেবে। আজ প্রমাণ হলো, এই কথাগুলো জাতির সাথে প্রতারণা ও ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই না।
আজ যে চিত্র আমরা দেখছি, যারা দেশের পক্ষে কথা বলবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলবে, তাদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে জেলখানায় বন্দি করে রাখা হবে।
সাংস্কৃতিক কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক – কেউ নিরাপদ নয়। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। জামিন আবেদন করাও যেন এখন নিষিদ্ধ।
এটাই কি তাদের গণতন্ত্র? এটাই কি আইনের শাসন?
জনতার আদালতে জবাব দিতে হবে
এডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজলের গ্রেফতার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি ভয় দেখানোর রাজনীতি। যাতে আর কোনো আইনজীবী সাহস করে সেলিনা হায়াৎ আইভী বা আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে না দাঁড়ায়। যাতে বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে তাদের দখলে চলে যায়।
কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।
বিগত দুই বছরে আপনারা দেশটাকে ধ্বংস করেছেন। এর জবাব জনতার আদালতে আপনাদের দিতেই হবে। প্রস্তুত হয়ে যান। জনগণ জবাব নেবে। তখন কোথায় থাকবেন আর কোথায় পালাবেন, সময়ই বলে দেবে।
আপনাদের অবস্থা ভালো না। জনগণ আপনাদের কার্যক্রম সহ্য করছে না, এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে এডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল সহ সর্বস্তরের মিথ্যা মামলায় বন্দি সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
এই বাংলাদেশের চিত্র আমরা দেখতে চাই না। এর দ্রুত অবসান হবে, ইনশাআল্লাহ।


