Shiekh Hasina
Shiekh Hasina

ট্রাভেল পাস পাসপোর্ট ছাড়াই ফিরবেন শেখ হাসিনা, তারেক সরকারের কিছুই করার থাকবে না

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন নাগরিককে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার কোনো সরকারের নেই। পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ দলিল মাত্র, নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের বাংলাদেশে প্রবেশের অবাধ অধিকার আছে। সরকার চাইলেই তার নাগরিককে দেশে আসতে বাধা দিতে পারে না।

আন্তর্জাতিক আইনেও একই কথা বলা আছে। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (ICAO) এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ তার নিজের নাগরিককে ফেরত আসতে অস্বীকার করতে পারে না। যদি পাসপোর্ট না থাকে, তাহলে যে দেশে তিনি অবস্থান করছেন, সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে একবার ব্যবহারযোগ্য ট্রাভেল পাস (One Way Travel Document)ইস্যু করতে বাধ্য। এটাই হলো ট্রাভেল পারমিট।

ভারত সরকার চাইলেই শেখ হাসিনাকে এই ট্রাভেল পাস দিতে পারে, অথবা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতিতে তিনি সরাসরি ফিরতে পারেন। সেক্ষেত্রে ঢাকা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন তাকে আটকাতে পারবে না, বরং তাকে গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে।

তাহলে তারেক সরকার কি করবে? কিছুই করার থাকবে না।

কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা নয়। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। কোটি কোটি নেতাকর্মী, সর্বস্তরের জনগণ।

আজ আপনি গ্রামে যান, গঞ্জে যান, চায়ের দোকানে যান, মসজিদে যান – সবখানে একটাই দোয়া, “আল্লাহ, আপাকে ফিরিয়ে আনো।” মা-বোনেরা রোজা রেখে, নামাজ পড়ে, মন্দিরে প্রদীপ জ্বালিয়ে ওনাকে দেশে আনার জন্য অবিরাম সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছে।

কেন করছে? কারণ মানুষ বুঝে গেছে, এই অন্যায়, অবিচার, অপশাসন, দুঃশাসন থেকে মুক্ত করার জন্য শেখ হাসিনার তৃতীয়বার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রয়োজন। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।

গত দুই বছরে দেশে কি হয়েছে? আইনের শাসন নেই, বিচার নেই, উন্নয়ন নেই। আছে শুধু মোব লিঞ্চিং, মিথ্যা মামলা, দাম বৃদ্ধি। যে বাংলাদেশ একসময় উন্নয়নের রোল মডেল ছিল, সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে মুখ দেখাতে পারছে না।

এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায় মানুষ। মানুষ আবার সেই নিরাপদ বাংলাদেশ চায়, যেখানে শেখ হাসিনার হাতে দেশ নিরাপদ ছিল।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা যখন প্রথমবার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, তখনও তাকে আটকানোর অনেক চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু পারেনি। লক্ষ মানুষের ভালোবাসা সব ষড়যন্ত্র ভেঙে দিয়েছিল। ২০০৭ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবুও তিনি ফিরে এসে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

পাসপোর্ট দিয়ে, ভিসা দিয়ে, আইন দিয়ে শেখ হাসিনাকে আটকে রাখা যাবে না। কারণ তিনি কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শ। তিনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত, তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

যেদিন তিনি ট্রাভেল পাস নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামবেন, সেদিন বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত জনসমুদ্র হবে। তারেক সরকারের পুলিশ, প্রশাসন তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করতে পারবে না। কারণ জনগণের স্রোতের সামনে কোনো বাধাই টেকে না।

তাই আমরা বলতে চাই – সময় এসেছে। তৃতীয়বারের মতো স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে এই দেশকে আবার বাঁচান। আপনার অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

Dipsikha Mandal
দীপশিখা মণ্ডল

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ২০২৩ সালে সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ। ETV ভারত, এক্সপ্রেস নিউজ ঘুরে এখন বেঙ্গল লিবার্টি-তে। বিনোদন, দেশ দুনিয়ার খবরের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। ঝোঁক বেশি রাজ্য এবং জেলার খবরে। ফটোগ্রাফিতেও সময় কাটে। অসময়ের সঙ্গী বই আর সিনেমা। নেশার বস্তু কফি, প্রকৃতি আর কবিতা।