Bengal Liberty : কলামিস্ট : নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.
জনাব তারেক রহমান, আপনি রাজনীতির মাঠের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আপনার বক্তব্য জাতি শোনে। কিন্তু সম্প্রতি আপনি যে গোয়েন্দা তত্ত্ব, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা বিদেশি চক্রান্তের কথা বলছেন, তা আপনাকে বড় বিপদের দিকে ঠেলে দেবে। এই ভুলটি করবেন না।
কারণ যুক্তরাষ্ট্র যা বলার, তা ইতিমধ্যেই ভারতকে বলে দিয়েছে। পর্দার আড়ালে খেলা শেষ।
বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি আজ আর ২০০৭ বা ২০১৪ সালের মতো নেই। এটি এখন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ আছে, ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থ আছে, চীনের বাণিজ্যিক স্বার্থ আছে। এই ত্রিমুখী স্বার্থের সমীকরণে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা ওয়াশিংটন বা দিল্লি কেউই মেনে নেবে না।
আরও খবর
আপনি যখন গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন, যখন বলেন – “গোয়েন্দারা এই করছে, ওই করছে”, তখন আপনি নিজের অজান্তেই দুটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের রেড লাইন অতিক্রম করছেন।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে জঙ্গি, উগ্রপন্থা এবং মৌলবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। তাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য আছে – গত দুই বছরে কারা জেল থেকে জঙ্গিদের ছেড়েছে, কারা মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, কারা দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়। এই তথ্য তারা ইতিমধ্যে ভারতের সাথে শেয়ার করেছে। কারণ ভারতের নিরাপত্তা মানেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা।
দিল্লি এখন জানে, কে বা কারা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে অস্থিতিশীল করতে চায়।
দ্বিতীয়ত, ভারত। ভারত কখনোই তার প্রতিবেশীতে একটি উগ্র-মৌলবাদী রাষ্ট্র দেখতে চায় না। ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তি বা দলের চেয়ে বড়। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা যে উচ্চতায় ছিল, তা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মডেল ছিল। আজ সেই নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে।
তারেক রহমান সাহেব, আপনাকে মনে রাখতে হবে – যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের গোয়েন্দা সহযোগিতা পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী সহযোগিতা। আপনি বাংলাদেশে বসে যা বলছেন, তার প্রতিটি শব্দ ওয়াশিংটন এবং দিল্লিতে বিশ্লেষণ হচ্ছে।
আপনি যদি মনে করেন, গোয়েন্দা তত্ত্ব বলে, কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে, মব লিঞ্চিং এবং বিশৃঙ্খলাকে পুঁজি করে ক্ষমতায় থাকবেন বা ক্ষমতায় আসবেন, তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে আছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে – বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গিবাদের ঠাঁই হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশই হবে আগামীর বাংলাদেশ।
তাই উপদেশ থাকবে – গোয়েন্দা তত্ত্বের নামে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করবেন না। সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা দেশের সম্পদ, কোনো দলের সম্পদ নয়। তাদের নিয়ে খেলা করলে তার পরিণতি শুভ হবে না।
রাজনীতি করুন জনগণের জন্য, উন্নয়নের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে নয়। মনে রাখবেন, যুক্তরাষ্ট্র যা বলার তা ভারতকে বলে দিয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার – আপনি কি ইতিহাসের সঠিক পাশে থাকবেন, নাকি ভুল করে বড় বিপদে পড়বেন?
সময় এখনো আছে, সঠিক পথে ফিরে আসুন। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব কারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে দল কয়েকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশের ৬০ % / ৭০% জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। সেই দলকে অবৈধভাবে কালো আইন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রেখেছেন তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক কর্মসূচি সুযোগ প্রদান করুন , যদি শুভ বুদ্ধি উদয় না হয় তাহলে আপনার পরিনীতি ভয়ংকর হবে ইতিহাসের পাতায় জাতি যুগ যুগ যুগান্তর ঘৃণা আর কলঙ্কের সাথে স্মরণ করবে এবং বাঙালি জাতি কখনো ক্ষমা করবে না। আপনার ভবিষ্যৎ যদি রাজনীতি করতে হয় তাহলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন।
আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন বাংলাদেশের ইতিহাস ও নারী নক্ষত্রের সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কখনো চলতে পারে না এবং চলবে না স্থিতিশীলতা শান্তি ফিরে আসবে না। জনগণ কিন্তু আপনার বিপক্ষে ইতি মাধ্যমে অবস্থান নিয়েছে। আজকে যারা অবৈধভাবে অপসারণ জুলুম নির্যাতন দুঃশাসন হত্যা খুন ধর্ষণ মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দি করে রেখেছে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিচার বাংলাদেশের জনগণের আদালতে হবে সময়ের অপেক্ষা মাত্র।


